Visit Our Educational Blog

Visit Our Educational Blog
A WAY TO LEARN & IMPROVE YOUR SKILLS ONLINE

Tuesday, May 22, 2018

বাঁচবো বাঁচাবো

এই কয়েক বছরের জীবনে এমন অনেক মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি, যাঁদের কখনও ভোলা যায় না। তাঁদের অনেককেই হয়তো সমাজের প্রতিষ্ঠিত লোকেরা চেনেনই না, অথচ তাঁরা নীরবে মানুসের সেবা করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। তাঁরা যে মানুষ তৈরীর কারিগর! তাঁদের পরিচয় আজ আমি এখানে তুলে ধরছি না। আপনাদের সামনে আজ এটুকুই বলব যে, তাঁরা যে মানুষগুলোকে গড়ে তুলেছেন, সেই মানুষগুলোর কাছে তাঁদের পরিচয় অনস্বীকার্য্য, যেমন আমাদের "বাঁচবো বাঁচাবো" তে "দিদা"।

আসলে আজকাল মানুষ দ্রুততার জীবন (fast life) অতিবাহিত করে।  তারা নিজেদের জীবন নিয়েই ব্যস্ত। অন্যের জন্য ব্যয় করার মত সময় তাদের কাছে নেই।  আবার অনেকে আছেন যাঁদের দেখে সমাজ বলে ওঠে "ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছে"।  আজ আমি যাঁদের কথা বললাম এবং বলবো তাঁরাও ঠিক ঐ দলের যাঁদের কাছে নিজের কাজের চেয়ে অন্যের কাজটা বড়। "ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো" - কথাটার ব্যাখ্যা করা মুশকিল। যেমন ধরুন এরা নিজেরা একটু কম খেয়ে রাস্তার ভিখিরিটাকে দেওয়া পছন্দ করেন বা কোনো ভবঘুরের শীত করছে বলে, পরদিন যেভাবেই হোক একটা কম্বল জোগাড় করে তাকে দিয়ে আসে, কিংবা রাত একটার সময় ফোনের ওপাশ থেকে কেউ যদি বলে এক বোতল রক্তের বিশেষ প্রয়োজন তবে  তৎক্ষণাৎ তা জোগাড় করে দেবার যথাসাধ্য চেষ্টা করে। সে যাই হোক এগুলোই উপরিউক্ত প্রবচনের যোগ্য উদাহরণ। আরো বলা যায়, এই যেমন ধরুন, হয়তো কোন চা বাগান বন্ধ। সেখানে কতজন বাচ্চা না খেয়ে আছে, সেই হিসেব টা কে রাখবে ! সময় কোথায় ! সকাল বেলা উঠে জিম যেতে হবে, এসেই ছোটো অফিসে, আবার অফিস শেষ হতে না হতেই, একটু সিনেমা বা শপিং -  সত্যিই তো সময়ের বড্ড অভাব।

কিন্তু ওই মানুষটির কি স্বার্থ ছিল সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর ? তাঁর বাইকটাকে Ambaulance বানানোর।  সে তাঁর  প্রিয়জনকে হারিয়েছিল হাসপাতালের অভাবে, সেটা আলাদা ব্যাপার কিন্তু তার জন্য বীনা পারিশ্রমিকে রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেবে ! সত্যিই এদের না, খেয়ে দেয়ে কোনো কাজ নেই, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায়।

আর ওই যে আরেকজন, উনি তো ভবঘুরেদের জন্য আশ্রম বানিয়েছেন, আবার লোকেদের থেকে জামা-কাপড় চেয়ে চেয়ে "ক্লথ ব্যাঙ্ক" বানিয়েছেন, আচ্ছা দরকারটা কি ছিল বলুনতো, আর কি করবে ?খেয়ে দেয়ে কোন কাজ নেই, ঘরের খেয়.........

আচ্ছা একবার ভেবে দেখুন তো, এই মানুষগুলোর কি স্বার্থ জড়িয়ে আছে এই কাজগুলো করার পেছনে, না , স্বার্থ নেই, আছে শুধু ভালোবাসা, আছে মনুষ্যত্ব। তাঁরা বিলাসিতা বেছে নেননি। কি হবে এই বিলাসিতা দিয়ে ? সব্বাই তো একদিন জ্বলে যাবে, অথবা শুয়ে যাবে ধরিত্রীর বুকে, তাই যদি কিছু মানুষের করা যায় সামান্য উপকার, তবে নিজেকে ধন্য মনে করেন এনারা। হয়তো তার জন্যই এই মানুষগুলোর ত্যাগ স্বীকার। হয়তো এদের হাত ধরেই ভবিষ্যতে আসবে আরো ভালো মানুষ। আর ঠিক এই মানুষগুলোর মতোই তাঁদের হাত ধরে গড়ে উঠবে সুস্থ সমাজ।

আমি কিন্তু ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবো বলে ঠিক করলাম।

আর আপনারা ?
শুভজিত দেবনাথ




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় , যুক্ত হন আমাদের facebook গ্রুপে। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media, join our Facebook group. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.


Monday, May 14, 2018

মাতৃকা


আজি আসিয়াছি তব মন্দির দুয়ারে।
সাক্ষাৎ রুপে হেরিতে তোমায়।।
 ফিরাইয়া দিয়ো না মোরে শত উপেক্ষা করে,
অবুঝ হইয়া বাহির হয়েছিলেম সে কোনো নিশিভোরে,
বক্ষভরা হৃদে, তোমায় বেদনা দিয়েছিলেম নির্মম করে।
চাহি নাই তোমা পানে, একটি বারেক ফিরে।।
              হে করুণাময়ী

শান্তির অন্বেষণে নিভৃত করিয়া মননে.....

ভ্রমেছিলেম বহুদুর,দেখেছিলেম কত স্বপন,রেখেছিলেম অনেক কথন,হেঁটেছিলেম  বহু বন্ধুর পথ।

           মিলেনাই শান্তির নীড়।
নীলাম্বরে প্রকাণ্ড কালো নীরদ ভাতিছে,,,,,

কহিলাম তারে পার কী দিতে?

মোর দুটি হাত ভরে তোমার ওই
কালো মেঘের একবিন্দু জল.....

মিলে নাই কোনো প্রত্যুত্তর।।

চিত্ত ভরিয়া আশা,নয়নে ছিল ভাসা।
নীরবে আঁকিয়া বেদন, করেছিলেম গোপনে রোদন।
       তবু মিলে নাই শান্তি।।।

হে দয়াময়ী,

মিটিয়া সকল সাধ, ভিখারি পরাণে আজ....  
জাগিছে তব স্মরণ... একটিবার  দেখিবার তরে।।

তাই আজ আসিয়াছি মাতা
বহুদিন পর তব সন্নিকটে।

চিত্ত ভরিয়া লাজে ,জাগিয়া
উঠিছে আজিকে।
সে বহুদিনের কাজে........।

দংশিছে মনে,সদাই অনুক্ষণে,ভুলেরও কারণে।

ক্ষমাকরো মোরে সকল অপরাধের,
বাঁধিয়া লহো তব স্নেহডোরে...।
শীতল করিতে চাহি মন,পরশে তব শ্রীচরণ।


যে শান্তির লাগিয়া, ভ্রমেছিলেম ভুবন মাঝারে।
ফিরে পাইলাম তাকে তোমার তরে,হৃদয় জুড়ে।

যাবো নাকো ফিরে, তোমায় কখনো ছেড়ে,,,, 
        শান্তি খুঁজিবার তরে।।।।। 

           মৃণাল চক্রবর্ত্তী।
   




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় , যুক্ত হন আমাদের facebook গ্রুপে। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media, join our Facebook group. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.


Sunday, May 13, 2018

পঁচিশে বৈশাখ - বন্ধু তুমি রবি কবি, তুমি চিরসখা


"নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ
অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ। "

চারিদিকে হানাহানি, কাটাকাটি, বড় রক্তাক্ত পাশব এসময়। এসময় বড় প্রয়োজন তোমার রবি ঠাকুর। তুমি যে আমার তথা যুগ-যুগান্তরের নারীদের না বলা কথার আশ্রয়। যুগোপযোগী যন্ত্রণাকে রবীন্দ্রনাথ অনুভব করেছিলেন কল্পনায় নয়, জীবনের অভিজ্ঞতায়। তার কুমুদিনী, নন্দিনী, দামিনী, মৃণাল, বিমলা, সুভা, বিন্দু - গল্প উপন্যাস নাটকে এরাই যেন বলে উঠেছে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকতে হবে। বাঁচতে হবে পোশাকে - আসাকে আধুনিক হয়ে নয়, পাড়াগাঁয়ের গ্রাম্য রতনের মতো আদায় করে নিতে হবে নিজের সম্ভ্রম - নিজস্ব অধিকার।

রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ সেসময়কার প্রেক্ষাপট এবং মেয়েদের অবস্থানে এক ঝকঝকে দর্পন। কবি বলতেন - "প্রদীপ জ্বালাবার আগে সলতে পাকানো" - সেই থেকেই শুরু। তবে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্পের প্রদীপটি জ্বালাবার আগেও তার সলতে পাকানো কাজ করে গেছেন অনেকেই। তবে যথার্থ অর্থে বাংলা ছোটগল্পের প্রথম সার্থক শিল্পী তিনিই। কবিই প্রথম "ছোটগল্প" কথাটি ব্যবহার করেন। তবে রবীন্দ্রনাথের লেখা পঞ্চম গল্পটি কেবল তাঁরই রচিত প্রথম সার্থক ছোটগল্প নয় - বাংলা ছোটগল্পের ইতিহাসের ধারাতেও "দেনাপাওনা" প্রথম সার্থক ছোট গল্প।

গল্পগুচ্ছের পাতায় পাতায় রয়েছে অন্তরের বন্ধ দরজা খুলে মুক্ত হওয়ার বার্তা। তাইতো রবি ঠাকুর পিতৃসম মোদের অভিভাবকও বটে। আবার নারী হৃদয়ের গোপন প্রেমিক ও বটে। তাঁকে কি অনস্বীকার্য করা যায় ? না যায় না। ক্লান্ত শয্যায় তুমি আমার ঘুমপাড়ানি - তুমিই যে আমার তথা সারাবিশ্বের নারী কুলের শ্রেষ্ঠ বিনোদন - অনেক না বলা কথার আশ্রয়, না বলা ভাষার ব্যাপকতা।

রবিবাবুর গল্পগুচ্ছ - সে যেন নারীসমাজের কথামৃত, আর গীতার অস্ফুট বাণী। আজ স্মার্টফোনের দুনিয়ায় আমরা যে আধুনিকতার গর্ব করি ,তা বোধহয় রবীন্দ্রনাথ - তোমার আধুনিকতাকে ছুঁতে পারেনি। তোমার গিরিবালা সে যুগেও দর্পের সাথে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। স্বামীর বাইরে বেরিয়ে পড়া মনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে সে বাড়ি ছাড়ে। যে নাটকের দলের অভিনেত্রীর জন্য নিজের স্ত্রীকে ভুলে গিয়েছিলো গোপীনাথ, সেখানেই নিজের মোহময় সৌন্দর্য দিয়ে দর্শকদের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করে। সেকারণেই পাঁচ ছেলের পর যখন এক কন্যা জন্ম নিল আপন বাপ - মায়ে অনেক আদর করিয়া তাহার নাম রাখিলেন নিরুপমা। এ গোষ্ঠীতে এমন শৌখিন নাম ইতিপূর্বে কখনো শোনা যায় নাই , প্রায় ঠাকুর দেবতার নামই প্রচলিত ছিল........ "রামসুন্দর কে সান্ত্বনা দিবার সময় তাহার মেয়ের যে কিরূপ মহাসমারোহে মৃত্যু হইয়াছে, সকলেই তাহার বিপুল বর্ণনা করিল.......... এবারে বিশ হাজার টাকা পন হাতে হাতে আদায় " - পুরুষের এটা বোধহয় সহজাত প্রবৃত্তি যে সে যুদ্ধ চায়। যুদ্ধে জিততেও চায়। হার মানতে নারাজ। সবসময়ই সে লড়াইয়ের ময়দানে উল্টোদিকে তার চাইতে দুর্বলকে প্রত্যাশা করে খুশী হয়, খুশী হয় বললে ভুল হবে, বলা যেতে পারে আত্মসুখে সুখী হয়।


গিরিবালা, নিরূপমার মতো কখন যেন আমরা ঘুরতে ঘুরতে চলে আসি কুসুম বনেতে - "ঘাট বলে - জলের উপরে যখন কুসুমের ছোট ছায়াটি পড়িত, তখন আমার সাধ যাইতো যে ছায়াটি যদি ধরিয়া পারি, সে ছায়াটি যদি আমার উপর পা ফেলিত ও তাহার চারগাছি মল বাজিতে থাকিত, তখন আমার শৈবাল গুল্মগুলি পুলিকিত হইয়া উঠিত"। এই কুসুম বিয়ের স্বরূপ জানার আগেই সাদা পোশাকে ভুষিত হোল - সে বুঝতেই পারল না - নববধূর সাজই বা কাকে বলে বা বৈধব্যই বা কি ? কিন্তু যখন কালের নিয়মে ছোট্ট বালিকা বিয়ের স্বরুপকে চিনতে পারলো - তখন সব শেষ কিন্তু তাতে কী হেলদোল ই বা হোল ওইটুকু মেয়ের।

কিন্তু রবীন্দ্রনাথ যে সমস্যা তৈরিতে ক্ষান্ত হননি। তার প্রতিবাদী কন্ঠ ধ্বনিত হয়েছে বার বার। তিনি হেরে যাননি। তিনি শিখিয়েছেন - এক বিশ্বব্যাপী বৃহৎ অব্যক্ত মর্মব্যথার যন্ত্রণা, জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কতো মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কি, পৃথিবীতে কে কাহার............. স্ত্রীর পত্রে মেজ বউ এর প্রতিবাদী চরিত্র কিন্তু কুরুপার বাহু আস্ফালনের কাছেও হার মেনে যায়। কবি তুমি বারবার বলেছ - স্ত্রীলোক যেটা বুঝিতে পারেনা, হয় সেটার অস্তিত্ব বিলোপ করিয়া তাহার সহিত কোনো সম্পর্ক রেখো না, নয় তাহাকে স্বহস্তে নতুন মূর্তি দিয়া নিজের ব্যবহারযোগ্য একটি সামগ্রী গড়িয়া তোলে " - যদি দুইয়ের কোনোটিই না পারে, তবে তাহার উপর ভারী রাগ করিতে থাকে। মেয়েদের সম্পর্কে এই গভীর উপলব্ধি তাকে যেন অন্যমাত্রায় ভূষিত করে। তাঁর ভাষায় - "যখন নৌকায় উঠিলেন এবং নৌকা ছাড়িয়া দিল, বর্ষা বিস্ফারিত নদী ধরণীর উদ্বেলিত অশ্রু রাশির মত চারিদিক ছলছল করিতে লাগিল, তখন হৃদয়ের মধ্যে অত্যন্ত একটি বেদনা অনুভূত হইতে লাগিল, পালে যখন বাতাস লাগিল - মনে হইল এ পৃথিবীতে কে কাহার।"

আবার মেয়েটির নাম যখন সুভাষিনী রাখা হয়েছিল, তখন কে জানতো সে বোবা হবে ? কিন্তু সুভার বিয়ের পর যখন সে বুঝতে পারলো - "এবার তাহার স্বামী চক্ষু কর্ণেন্দ্রিয়ের দ্বারা পরীক্ষা করিয়া, এক ভাষা বিশিষ্ট কন্যা বিবাহ করিয়া আনিল। "

এসবের পরেও তুমি রবীন্দ্রনাথ - তুমি আত্মার আত্মীয় - আমার অজানা প্রেম রবি ঠাকুর তুমি - কিন্তু তোমার ভাষাতেই তোমাকে আমরা শুধু লালন - পালন করেই গেলাম, তোমাকে ধারণ পর্যন্ত করতে পারলাম না। তাইতো তুমি এখনো ঠাকুর - এখনো বোধ হয় পঁচিশে বৈশাখে ফুল-বেলপাতা দিয়ে পূজিত হও তুমি। তাই সমাজ রূপ তক্ষকের কাছে আমরা তথা আধুনিক নারীরা হার মেনে যাই। নিরুপমা হতে পারেনা হাবিব খাঁর পালিতা কন্যা কমলা - আবার বিন্দুকে তলিয়ে যেতে হয় কালের গর্ভে। কিন্তু মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে শেখায় গিরিবালা।

যাদের তুমি প্রানের ভাষা শিখিয়েছো বা যুগিয়েছো সেই নারীদের চেতনোদয় করার দায়িত্ব যে তোমারি রবি ঠাকুর - তাই বারবার মনে হয় ১৫৭ তম জন্ম দিবসের প্রাক্কালে বসে - হে বন্ধু, চিরবিদায় নয় -


"বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও
মনের মাঝারে চিরদিন তারে ডেকে নিও
ভুলোনা তারে নিতে - তাকে ডেকে নিও।"
Jayatee Banerjee





যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় , যুক্ত হন আমাদের facebook গ্রুপে। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media, join our Facebook group. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.


Saturday, May 12, 2018

পঁচিশে বৈশাখ

প্রথম যুগের উদয় দিগঙ্গনে
প্রথম দিনের ঊষা নেমে এল যবে
প্রকাশ পিয়াসী ধরিত্রী বনে বনে
শুধায়ে ফিরিল সুর খুঁজে পাবে কবে
এসো এসো সেই নবসৃষ্টির কবি
নবজাগরণ যুগ প্রভাতে রবি -

ধ্বনিল আহ্বান মধুর গম্ভীর প্রভাত অম্বর মাঝে দিকে দিগন্তরে ভুবনমন্দিরে শান্তি সঙ্গীত বাজে হেরো গো অন্তরে অরূপ সুন্দরে

নিখিল সংসারে পরম বন্ধুরে এসো আনন্দিত মিলন অঙ্গনে শোভন মঙ্গল সাজে


তুমি কি এসেছ মোর দ্বারে
খুঁজিতে আমায় আপনারে


দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু
তোমার প্রেমে ধন্য কর যারে
সত্য করে পায় সে আপনারে
দুঃখে শোকে নিন্দা পরিবাদে
চিত্ত তার ডোবেনা অবসাদে


লুকিয়ে আসে আঁধার রাতে
তুমি আমার বন্ধু হও
লও যে টেনে কঠিন হাতে
তুমি ই যে আমার আনন্দ
বজ্র এসো হে বক্ষ চিরে
তুমিই আমার বন্ধু গো
মৃত্যু লও হে বাঁধন ছিঁড়ে
তুমিই আমার আনন্দ গো আনন্দ,

আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে
আমার মুক্তি ধূলায় ধূলায় ঘাসে ঘাসে
দেহমনের সুদূর পারে হারিয়ে ফেলি আপনারে
গানের সুরে আমার মুক্তি উর্ধে ভাসে
আমার মুক্তি সর্বজনের মনের মাঝে
দুঃখ বিপদ তুচ্ছ করা কঠিন কাজে
বিশ্ব ধাতার যজ্ঞশালা আত্মহোমের বহ্নিজ্বালা
জীবন যেন দিই আহুতি মুক্তি আশে

কিন্তু মুক্তি মেলা যে ভার। বড্ড দুর্গম সে পথ। তবুও এচলার শেষ নেই -


যেতে যেতে একলা পথে নিবেছে মোর বাতি
ঝড় এসেছে, ওরে , এবার ঝড়কে পেলেম সাথী
আকাশ-কোণে সর্বনেশে
ক্ষণে ক্ষণে উঠছে হেসে প্রলয় আমার কেশে বেশে করছে মাতামাতি

তাইতো করজোরে নিবেদন
প্রতিদিন আমি,
হে জীবনস্বামী,
দাঁড়াব তোমারি সম্মুখে
করি জোরকর হে ভুবনেশ্বর -
দাঁড়াব তোমারি সম্মুখে -
তোমার অপার আকাশের তলে বিজন বিরল হে -
নম্র হৃদয়ে নয়নের জলে
দাঁড়াব তোমারি সম্মুখে
এভাবেই পরশ লাগে প্রানে ও মননে


আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে
এ জীবন পুণ্য করো দহন দানে
আমার এই দেহখানি তুলে ধরো,
তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো
নিশিদিন আলোকশিখা জ্বলুক গানে
আঁধারের গায়ে গায়ে পরশ তব
সারা রাত কোটাকতারা নব নব
নয়নের দৃষ্টি হতে ঘুচবে কালো,
যেখানে পড়বে সেথায় দেখবে আলো -
ব্যথা মোর উঠবে জ্বলে ঊর্ধ্বপানে

এইভাবেই জগতের আনন্দযজ্ঞে সকলের জন্য নিমন্ত্রণ - মানবজীবনও হল ধন্য, ধন্য হোল। সাধ মিটিয়েই বেড়ায় ঘুরে নয়ন আমার রূ পর পুরে - তাইতো শ্রবণ আমার গভীর সুরে হয়েছে মগন।

শেষ নাহি যে,
শেষ কথা কে বলবে,
আঘাত হয়ে দিল দেখা
আগুন হয়ে জ্বলবে
সাঙ্গ যে হল মেঘের পালা
শুরু হবে বৃষ্টির ঢালা
বরফ জমা সারা হলে নদী হয়ে গলবে -


তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে
টুকরো করে কাছি
আমি ডুবতে রাজি আছি
সকাল আমার গেল মিছে বিকেল যে যায়
তারি পিছে গো

রেখো না আর,
বেঁধনা আর কূলের কাছাকাছি।
Jayatee Banerjee






যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় , যুক্ত হন আমাদের facebook গ্রুপে। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media, join our Facebook group. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.

Tuesday, May 8, 2018

করাপশন বা দুর্নীতির কুফল


"করাপশন" কথাটির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত, কারণ আমাদের দেশে এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়।  কথাটি মানুষের মনে গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে এটি একটি খুব সাধারণ দুষ্ট ক্ষত। "সুলতান - মুঘল আমল" থেকেই এর প্রকোপ আমরা দেখয়ে পেয়েছি। এখন এটি একটি নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। বর্তমানে মানুষের মনকে বা সত্ত্বাকে এটি খুব বেশী মাত্রায় আক্রমণ করেছে এবং এটি এতই একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে যে দুষ্ট মানুষেরা আজ জনসাধারণের জীবন নিয়ে খেলছে।। এটা এক ধরনের লোভ যা মানুষের মনুষ্যত্বকে ও স্বাভাবিকতাকে ধ্বংস করে ফেলছে।

"করাপশন" বলতে দুর্নীতি, অসাধুতা, ভ্রষ্টাচার, নৈতিক অধঃপতন, ক্ষয়, পচন, বিকার বা বিচ্যুতি যাই বলিনা কেন ; এটি বিভিন্ন ধরনের।  এটি ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষায়, খেলায়, রাজনীতিতে সর্বত্র।  এই বিচ্যুতির ফলে কর্মক্ষেত্রে একজন নর বা নারী তার দায়িত্ব সম্বন্ধে সঠিক উপলব্ধি পায়না বা সম্যকভাবে সচেতন থাকে না। চৌর্য্যব্রত্তি, অসাধুতা ও জাতীয় সম্পদের অপচয়, সময়ের অনর্থক অপচয়, শোষণ, প্রতারণা, অপবাদ, দায়িত্বের বা ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদি "করাপশনের" বিভিন্ন দিক। উন্নয়নশীল ও উন্নত সব দেশেই এই এর শিকড় গেড়েছে।


আমাদের দেশ ভারতবর্ষ এক ধরনের জীবনযাত্রা আজ গ্রহণ করেছে। এখানে এখন কেবলমাত্র টাকা বা ঘুষ দিলেই যে কোন কিছুই করা সম্ভবতঃ সম্ভব। আমাদের দেশে দুর্নীতি বা করাপশন এখন সর্বত্র এবং একে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ভারতবর্ষে অপরাধ যেন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর ফল দুঃস্থ মানুষদের জীবনকে বিপন্ন করছে।

পুলিশের দুর্নীতি শুধু ভারতবর্ষেই নয়, অন্য দেশগুলোতেও দেখা যাচ্ছে। এটা এখন বিশ্বজুড়ে একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। একটি দেশ ও দুর্নীতিমুক্ত নয়।

দুর্নীতির যে কুফল তার প্রভাব থেকে আমাদের সমাজ ও দেশকে দূষণমুক্ত করার জন্য আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। প্রত্যেকটি দেশেই যে নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ মেনে চলা হয় তার প্রতি আমাদের সৎ থাকতে হবে। সমস্ত দেশকে ভ্রষ্টাচার মুক্ত করা আমাদের কর্তব্য।

প্রার্থনা করি, দেশ ভ্রষ্টাচার ও দূষণমুক্ত হোক!
Sannistha Das




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় , যুক্ত হন আমাদের facebook গ্রুপে। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media, join our Facebook group. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.

 Visit Us

এক বৃন্তে দুটি কুসুম


প্রিয় প্রত্যুষা

বৈশাখী ঝড় কাটিয়ে উঠে আজ তুমি বরণ করে নিয়েছ রবিমাসকে। আপন করেছ বিদ্রোহী কবিকে। আমাদের দেহে মনে পরাগ রেনু মেখে দিয়ে ঋদ্ধ করেছ আমার অন্তরকে। তোমার এমাসের বিষয় বড়ই আকর্ষনীয়। আমার মত চির প্রেমীরা কি এই আলোচনার ভার বইতে সমর্থ - দেখি একটু চেষ্টা করে।

একবিংশ শতাব্দীর দোরগোড়াতে দাঁড়িয়ে আজ আমি মধ্য গগনে। এই পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে মনে আসে সেই গান - পদধ্বনি শুনি তার আমি বারে বারে  ছুটে যাই দ্বারে - এই হল অনুভূতি - এই জীবন দর্শনেই সমৃদ্ধ হয়েছি আমি ও আমরা। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে প্রতিটি ধাপে লতানো গাছের মত জড়িয়ে রয়েছ রবিঠাকুর। সেই ছোটোবেলা থেকেই জীবনমরণ তুঁহু মম - বিদ্যাসাগরের কথামালা ছেড়ে "সহজপাঠে" প্রবেশ করি তখন থেকেই রবি ঠাকুর তুমি আমার সাথী - আমার প্রাণের ভাষা - মুখ এর কথা - লেখার লেখনী। নিজের মেয়ের মধ্যেও একসময় শুনেছিলাম - ছোটো খোকা বলে অ আ শেখেনি সে কথা কওয়া। আজ সেই সব দিনগুলো পার করে এসেছি প্রত্যুষা। এক জীবনযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে শুনতে পাই - যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। আমরা যে জীবনসংগ্রামে মেতে উঠেছি , সেখানে তো ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট সে তরী - তবুও বোধ হয় পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকবার লোকের অভাব হয়না। যে অকৃত্রিম ভালবাসা দিয়ে তুমি কাছে টেনে নিয়েছ রবিঠাকুর তাকে ফিরিয়ে দেবার সাধ্যি কারও নেই গো - এটা তো মানতেই হবে বা মেনে নিতেই হবে। সংসারের চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে যখন মনে হয় "আমার মুক্তি আলোয় আলোয়" তেমনি পরক্ষণেই আবার মনে পড়ে ভালবাসি ভালবাসি - কাছে দূরে জলে স্থলে - এভাবে তুমি ভালবাসার বন্ধনেও জড়িয়ে রাখো - তন্বী শ্যামার গলায় আমিই যেন গেয়ে উঠি "প্রেমের জোয়ারে"। এভাবেই অন্তরের অন্তঃস্থলে কোথায় যে তোমার আসন পেতেছি আমি নিজেই - তা বোঝাবার বা বলার সাধ্যি আমার নেই। তুমি রবে নীরবের এক অচ্ছেদ্য বন্ধনে রয়ে গিয়েছ আমার সাথে হয়তো বা থেকেও যাবে শেষ দিন পর্যন্ত। কারণ - তুমিই যে আমার ভালবাসা - না বলা কথার আশ্রয় - আর ফেলে আসা জীবনের পারানি।



আমার এই স্বল্প পরিসর মনে একইভাবে যে উঁকি দেয় অগ্নিবীণা হাতে বিদ্রোহী কবি।  যে রবীন্দ্রনাথ সন্দীপ এর মধ্য দিয়ে আমাদের অন্তরকে দেশমাতৃকার পূজায় উদ্বেলিত করে দেয় - সেই মনকেই নাড়া দেয় বিদ্রোহী নজরুল। ধূমকেতুর মত জানান দেয় "বল উন্নত মম শির, শির - নেহারি - বল বীর"। এই ঘোষণা যে আমাদের হৃদয়কে আরও উত্তাল করে তোলে। তাঁর উদ্দীপ্ত ভাষণ বিদ্রোহী রণক্লান্ত সেনার - "........সেই দিন হব আমি শান্ত"। তাঁর সৃষ্টি সুখের উল্লাসে আমাকে যে কোন দূরালোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় তা বলার বাইরে। একই বৃন্তে দুটি কুসুমের মতই তাঁর লেখনী তাঁকে শুধু বিদ্রোহী কবি হিসেবেই পরিচিত করায়নি - তিনি যে সুন্দরের পূজারী , সুদূরের পিয়াসী - তাঁর প্রিয়াকে তিনি সাজিয়েছিলেন ভূষণহারে , খোঁপায় গাঁদায় ফুল গুঁজে আর চৈতী চাঁদের দুল দিয়ে।  ফুলের জলসায় আচ্ছাদিত রেখেছেন তাঁর বিপুল সম্ভারকে।  আর কণ্ঠে পড়িয়েছেন অনবদ্য সেই মালিকা - এইভাবে ফুলের জলসায় নীরবে রয়েছেন কবি নজরুল।

তাই তো প্রত্যুষা - এভাবেই রবীন্দ্র নজরুলকে জীবনের সঙ্গী করে মাভৈঃ মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলি - দেখি এই পথ চলার শেষ কোথায় ?

ভাল থেকো প্রত্যুষা
Jayatee Banerjee




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় , যুক্ত হন আমাদের facebook গ্রুপে। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media, join our Facebook group. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.

বন্ধন

সংসার - সম + সার : বড্ড কঠিন এই দুটো শব্দ। যার মায়াজালে জড়িয়ে রয়েছি আমরা - হ্যাঁ , আমরা যারা কিনা সমাজের "সমাজ" নামক দুরারোগ্য ব্যাধির ফসল। আমরা যারা সংসারী মানুষ , যারা কিনা সামাজিক জীব তারা কি পারি এই ব্যাধির অক্টোপাস থেকে নিজেকে মুক্ত করতে ? আমরা তো অবলা জীব মাত্র - যাকে ঘিরে রয়েছে মোহ , মুক্তি , প্রেম , ভালবাসা , দুঃখ , বেদনা , মূল্যবোধ , কর্তব্য প্রভৃতি আরো অনেক ভারী ভারী শব্দ। এই অক্টোপাসের নামই হল মায়া।

মায়া - যেকিনা জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে আমাদের পিছু ধাওয়া করে চলেছে। মায়া - প্রেম না ভালবাসা - এ প্রশ্নের উত্তর বড় কঠিন।  একজন সন্যাসীর জীবন মায়াশুন্য , আবার যে মানুষটি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে দৃষ্টির অন্তরালে , সে কি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেছে ? হয়তো বা করেছে। কিন্তু তার প্রকৃত সত্যতা কোথায় ? কোথায় রয়েছে বন্ধন - এই বন্ধন ই হল এক বা একাধিকের সাথে জড়িয়ে পড়ার আসক্তি। কিন্তু এই মায়া - এযে বড় কঠিন জিনিস। রবীন্দ্র রচনাবলীতে এর পূর্ণফলন যেন আমরা প্রতিটি মুহূর্তেই পাই। সেই জমিদার বাড়ির মেয়ে এই মায়ার জালেই জড়িয়ে পড়ে এক স্বদেশীর ব্রাহ্মণত্ব কে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু আবার "ঘরে বাইরে" র  সন্দীপ হয়ত বা মোহের বশবর্তী হয়েই এই দৃড় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছিল। সেটা কি শুধুই মোহ প্রদর্শন।  রবীন্দ্র পরবর্তী যুগেও কিন্তু এই মোহ মায়ার ধারা অব্যাহত। তবে এই মোহ কি আপেক্ষিক নাকি আধুনিকতার সাহায্য নিয়ে বলতে হয় তা প্রদর্শিত মাত্র। তাইতো আজকের নারী স্বাধীনতার পরবতী যুগেও ভোগ্য পণ্য - এর নাম কিন্তু আকাঙ্খা। এই আকাঙ্খার জন্ম আবার মোহ থেকে। কাজেই মোহর অপর অর্থ বন্ধন। যে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমরা জড়িয়ে পড়ি সংসারের পাঁকে। কিন্তু এখানেই শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের কথাটি আমাদের স্মরণে রাখতে হবে - "সংসারে সং সেজে ঠেকতে হয়, পাকাল মাছের মত থাকতে হয়, সংসারে থেকেও সংসারের কাদা গায়ে মাখা যাবে না।" এই মায়াময় মোহময় পৃথিবীতে সকলেই আমরা এক মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ।



পুরাণে দেখি , পাঞ্চালীও শেষপর্যায়ে পঞ্চপাণ্ডবের সাথে স্বর্গারোহণ করার সময় মায়ার বন্ধনেই পা পিছলে পরে যায়। কারণ , পাঞ্চালী যে সত্যের আলাপ করে মায়ায় জড়িয়ে পড়েছিল। পাঁচ স্বামী থাকা সত্বেও অর্জুনের প্রতি পক্ষপাত দুষ্টে সে দোষী। আর কৌন্তেয় - যার কিনা দুহাত সমান চলে - সেই সব্যসাচী - যে সারা জীবন অন্যের খুশীর ভার নিজের কাঁধে নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিল। এরই নাম মায়া। কুরুক্ষেত্রে সূতপুত্রের যবনিকা পতনের পর ও সেই দায়ভার অর্জুনকে মাথা পেতে নিতে হয়েছে। মাতা কুন্তীর তার প্রতি কি নিদারুণ বিষোদ্গার - আমাদের মরমী মনকে নাড়া দিয়ে যায়। আবার যে যাজ্ঞসেনীর জন্য অর্জুনের সারা কাহিনী জুড়ে আত্মদংশন , তার মনেও কিন্তু রাধেরও প্রতি কোনো ব্যথিত হৃদয় উঁকি মারে। একই অর্জুনের পক্ষে লজ্জা নয় - এরই নাম মায়া। যার থেকে জন্ম নেয় প্রেম , ভালোবাসা ,অধিকার।

সেইযে একটা কথা আছে না - স্বাধীনতা ভাল কিন্তু স্বেচ্ছাচারিতা ভাল নয়। ঠিক সেভাবেই বলতে হয় , মায়ার বশবর্তী হওয়া ভাল কিন্তু অন্ধ মায়ায় জড়িয়ে পড়া ভাল নয়। যার ফল আমরা দেখি - অষ্টাদশ দিবসের যুদ্ধের শেষে পুত্রস্নেহে অন্ধ নিঃসন্তান গান্ধারী অর্জুনের সারথী কৃষ্ণকে শাপশাপান্ত করছেন এই বলে যে , এমনি করেই একদিন কালের অতল তলে কুরুবংশের মত যদু বংশ অবলুপ্ত হয়ে যাবে। এরই নাম মায়া।

পুরাণের কথা বাদ দিয়ে আমরা যদি বাস্তবে ফিরে আসি , তাহলেও দেখব - এই বিশ্ব সংসার মায়ার জালে আবদ্ধ। মায়া - এযে বড় কঠিন , আবার তার সাথে হৃদয় বিদারক বটে। তাইতো শরতবাবুর সতীশ সমাজের চোখে আড়াল করেও বার বার সাবিত্রীর কাছে ধরা পরে গিয়েছে। যার থেকে সতীশ আর শেষ অবধি বেরোতে পারেনি। হয়ত বা চায়ও নি। আমাদের মত সাধারণ জীবনে মায়ার বন্ধন ছিন্ন হলেই আমরা আশাহত হয়ে পড়ি। শিলং পাহাড়ে অমিত তার বংশ মর্যাদা ছেড়ে বেরিয়ে এসেও লাবণ্যর হাতছানিতে ধরা দিতে পারেনি। নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনা কলকাতার কেটি মিত্তিরের জগতের সাথে। তার থেকেই জন্ম নেয় অবসাদ। যার শিকার আজ ১৫০ কোটি জনসংখ্যার দেশের প্রায় পঁচাত্তুর শতাংশ মানুষ। অবসাদের জন্ম হয় কিন্তু এই মোহমায়া থেকেই। নতুন বৌঠানের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ ও মোহভঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন , তার জীবনে নেমে এসেছিল অবসাদ। এই সম্পর্কই একসময়ে মায়ার বশবর্তী হয়ে পরে - যে মায়া আমাদের আবদ্ধ করে রেখেছে। কিন্তু সামাজিক সম্পর্ককে কি আমরা অস্বীকার করতে পারি ? পারি কি ? - মায়ার বন্ধন , রক্তের বন্ধন , সম্পর্কের বন্ধনকে ছিড়ে বেরিয়ে আসতে।  পারিনা , কারণ , আমরা যে সমাজবদ্ধ জীব - আমরা যে মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ। তাইতো আজ জীবনের দ্বিপ্রহরে এসে আমরা উপলব্ধি করি , যা যায় তা চলেই যায় - যা থাকার নয় তাকে আটকে রাখা যায় না। রাখালছেলের গাঁয়ের মটরশুঁটিও যে পা জড়িয়ে ধরে বলে - যেতে নাহি দেব / তবু যেতে দিতে হয় , তাইতো নিজেকে মোহমুক্ত করেই এগিয়ে যেতে হবে - এরই নাম জীবন। পিছিয়ে পড়লে চলবে না - এখনো যে অনেক কাজ বাকী।
Jayatee Banerjee




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.

নারী ও জীবন

"ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু
পথে যদি হারিয়ে..................."

হ্যাঁ সত্যিই পথ হারানোর মতই এক গল্প। তবে পথ ভোলা পথিক তো নয় যেন নতুন আলোর দিশারী। আজ যে গল্পটাকে লিখব বলে কলম ধরেছি - সে বড় কঠিন কাজ।  বড় দুরূহ , কষ্টসাধ্য। তবে শুরু যখন করলাম, মাভৈ বলে : সমুদ্রে ঝাঁপ দিলাম - তার তো একটা শেষ আছেই। দেখা যাক সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করে কতদূর যাওয়া যায়।

সংগ্ৰামী জীবন : কথাটার তাৎপর্য বড়ই ব্যপ্ত, বিস্তীর্ণ, একে দ্বাররুদ্ধ করে রাখা যায় না আবার স্রোতের হাওয়ায় মিশিয়েও দেওয়া যায় না। তবে যার কথা ভেবে এই লেখনীকে আশ্রয় করেছি সে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয় বা তথাকথিত এন. জি. ও. তে কাজ করা কোনো সমাজসেবীও নয়। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের সামাজিক প্রেক্ষাপটেই তৈরী হয়েছিল তার সমাজে এগিয়ে যাওয়ার পাথেয়। সে সম্বল করে নিয়েছিল তার পুঁথিগত বিদ্যা তথা শিক্ষা আর তথাকথিত আধুনিক মানসিকতাকে। পঞ্চাশের দোড়গোড়ায় তখনও আমাদের মানসিক গঠন পূর্ণতা পায়নি, "জন্মেছি যখন দাগ কেটে যাব" - এই চিন্তাধারা পোষণ করতে শিখিনি, রক্ত মাংসে গড়া মানুষ হতে চেয়েছিলাম, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটেই কীভাবে যেন বেড়ে উঠেছিল এই মেয়েটি। চেয়েছিল পড়াশোনা শিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নিয়ে মান - হুঁশ হতে।



উত্তরবঙ্গের কোনো এক প্রত্যন্ত চা বাগানে বড় হয়ে উঠেছিল এই ছোট্ট মেয়ে। সে যে নাগরাকাটার সবুজ মোড়া চা বাগানের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে অর্কর মতো স্বপ্ন দেখত - স্বাধীন সমাজের। যে সমাজে থাকবেনা উচ্চ - নীচের ভেদ, চারিদিকে হাহাকার। শ্লীলতাহানী, নির্যাতন, ধর্মের নামে ভ্রষ্টামি - এরকমই দুর্বোধ্য শব্দগুলি যাবে সমাজ থেকে মুছে। কিন্তু সে যে তখন খুবই ছোট, বাবা - মায়ের হাত ছাড়া হতে পারেনি তখনও। কিন্তু বয়সে ছোট হলে কি হবে, তার মন উড়ে যেত গোর্কি, নিকোলাই অস্ত্র ভোস্কির দেশে - যেখানে একজন সাধারণ মা তার ছেলে পাভেলকে এগিয়ে দেয় রক্তে রাঙা বিপ্লবের পথে। সেই ছোট্ট মেয়েটির হাত ধরেই প্রত্যন্ত চা বাগানের একটি স্কুলের হয় গোড়াপত্তন। আর মেয়েটির জীবনের প্রথম তথা স্কুলটির প্রধান শিক্ষক তার কানে ঢুকিয়ে দেয় জীবন চলার অভয়মন্ত্র - যে অভয়বানীকে সম্বল করে সেই বাহ্যকলেবরহীন বিদ্যালয়টির মতো সেও এগিয়ে চলে জীবনযুদ্ধে। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেনি তার জীবনরথ - সেখান থেকে উত্তরণ শহরের এক অখ্যাত বিদ্যালয়ে। একান্নবর্তী পরিবারের আর পাঁচজন ভাইবোনের সাথে মিলেমিশে থাকলেও তার স্বাতন্ত্রতা চোখে পড়তে দেরী হয় নি কারোরই। বাড়ির কাকু পিসিরা ছোটবেলাতেই তাকে আখ্যায়িত করে "দিদিমণি" নামে। যুক্তির অভাবে তৎকালীন সমাজ পরিবারের অনেক কথাই তার জীবনকে ছাঁচে ফেলে দিতে পারেনি। সেই সময়ের প্রিইউনিভার্সিটির গন্ডি পার হয়ে সে এসে দাঁড়ায় মহাবিদ্যালয়ের বিশাল প্রাঙ্গণে। তখন সে অনেক স্বাধীন। আর পাঁচটা মেয়ের মতো পুতুল খেলার সংসারে সে বিশ্বাসী নয়। ছেলের দলের সাথে পাল্লা দিয়ে সে সমাজ, সামাজিকতা, তৎকালীন প্রেক্ষাপট নিয়ে গলা মেলাতে থাকে। তার চলনবলন আচার আচরণ বুঝিয়ে দেয় নারী মাত্রই অবলা জীব নয়। পোশাকে আধুনিক না হয়ে মানসিকতাতেও আধুনিক হয়ে ওঠা যায় - তাই ছিল তার দর্শন। ষাটের দশকে প্রত্যন্ত শহরগুলিতে মেয়েদের অবস্থান কিন্তু কখনোই ছেলেদের সাথে এক সারিতে নয়। কিন্তু তাই মেয়েটি - সে তার জেদ, সাহসিকতা আর একনিষ্ঠতা দিয়ে আদায় করে নেয় নিজের স্থান। পারিপার্শ্বিক সমাজব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে সে পাড়ি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ে - সাথে থাকে শুধু তার অধ্যাবসায়ের মানপত্র আর মনের জোর। জড়িয়ে পড়ে সেই সময়কার রাজনৈতিক আন্দোলনে। ষাটের দশকের বিপ্লবী মনোভাবকে নিজের মনের ভিতরে পেরেক দিয়ে গেঁথে নেয় - যার ফল আজও প্রতিটি ক্ষেত্রে জাজ্বল্যমান। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মিটিং মিছিল তার সুপ্ত স্বপ্নকে জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে আর সেও  দেখতে শুরু করে স্বপ্ন। কিন্তু বাঁধ সাধে প্রকৃতি, বাঁধ সাধে সমাজ। সে যে মেয়ে, সে যে যুবতী - তাইতো তার ঘরের ঠিকানা যে অস্থায়ী, তাকেও চলে যেতে হয় ঘোমটার আড়ালে। তার দুর্ভাগ্য - মাধবীলতার মত অনিমেষকে সে পায়নি - তবে আর একধরণের কণ্টকময় পরিবেশে শুরু হয় তার জীবনের দ্বিতীয় আর দীর্ঘ অধ্যায়। সেখানে সে ভুলে যেতে বসে তার অস্তিত্ব। শুরু হয় তার জীবনসংগ্রামের অন্তিম আর কঠিন থেকে কঠিনতর সংগ্রামী পালা। গোর্কি, মার্কস ছেড়ে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয় রাঁধার পর বাড়া আর বাড়ার পর রাঁধা - এই জীবনে। নতুন জীবনের প্রতিটি দিন কাটে তার হাঁড়ির জলে হাত ডুবিয়ে। নতুন সংসারে এসে সব মেয়েরা যখন রঙিন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তখন সে নিজেকে পরিচিত করে নতুন বউ হিসেবে নয়, একজন দক্ষ সেবিকা হিসেবে। সাংসারিক কর্তব্যে আর রুগী সেবা করতে করতে ভুলে যায় সমস্ত রকম আমোদ আহ্লাদ। কিন্তু তাতে তার মন ভেঙে যায় না। কারণ সে যে শুধুই রক্তেমাংসে গড়া মানুষ হতে চায়নি। সে চেয়েছিল একজন আদর্শবাদী নারী হতে। যে মেয়ের শুধুমাত্র সংসারটা পুতুল খেলার না হয়ে, হয়ে উঠবে মানুষ গড়ার সংসার, মানুষ গড়ার কারখানা। সে নিজেও জানেনা সে আজ সফল কিনা - তবে তার অক্লান্ত পরিশ্রম বাস্তব রূপদানের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নি। পারেনি একজন আদর্শ মায়ের মর্যাদা থেকে চ্যুত করতে। তাইতো সে মুখ বুজে অপেক্ষা করত সেই দিনটার - যে দিনটাতে সূর্য উঠবেই। এইভাবে নতুন সংসারেও সে হয়ে ওঠে অনিবার্য। তাকে শ্বশুড়বাড়িতে - অনেকটা যেন ছাই ফেলতে ভাঙা কুলোর মতই তার অবস্থা হয়। কিন্তু কেউ তাকে আটকে রাখতে পারেনা। নিজের ভাল থাকা, ভাল খাওয়া আর ভাল পড়া কে বিসর্জন দিয়ে পরের জন্য বিসর্জন দেয় নিজেকে। সে বলে - জীবনটা শুধু নিজের জন্য নয় - এটুকু জীবনে কত কী করবার আছে। সে যে ছোট থেকেই বহুজন হিতায় বহুজন সেবায় : মন্ত্রে দীক্ষিত। রক্তের সম্পর্ক না থেকেও যে হয়ে ওঠে সংসারের প্রত্যেকের কাছে অপরিহার্য্য।




সমস্ত ক্ষেত্রেই তার মতামত, উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ে। তার ব্যাপ্তি হয়তো চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ থেকেছে কিন্তু তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কাছে নতিস্বীকার করতে হয়েছে সাংসারিক কূটনীতিকে। সে তার সংগ্রামী সুবুদ্ধি দিয়ে জং ধরে যাওয়া সংসারকে টেনে নিয়ে গিয়েছে অনেক দূর তবু তার এই সংসার সংগ্রাম কিন্তু থেমে থাকে নি শুধুমাত্র তিনজনের মধ্যে। সে তার ঐ তেজোদ্দীপ্ত সংগ্রামী জীবনকে উৎসর্গ করতে কখনো পিছুপা হয়নি, একান্নবর্তী পরিবারের জন্য। তার নিরলস প্রচেষ্টাতেই পায়ের নীচের শক্ত ভিত খুঁজে পেয়েছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা - একদিন কিনা যারাই তাকে আখ্যায়িত করেছিল সেই দিনের স্বাধীনচেতা বউ বলে। কিন্তু সে যে মনে করে সে বোধহয় ভাগ্যহীনা দলের স্থায়ী সদস্যা। তবুও তার সংগ্রামী মন হার মানে না - হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে; তোমায় আমায় দেখা হবে সেই মিলনের পরে। তাই তার সংগ্রামী মনকে দমিয়ে রাখতে পারেনি পারিপার্শ্বিক কীটানুকীটের দল। কুসংস্কারাচ্ছন্ন একান্নবর্তী পরিবারেও সে নিজের আত্মসম্মান, পড়াশুনা, পরিশীলিত রূচিবোধের আর সর্বোপরি কর্তব্যপরায়ণতার জোরে নিজের আসন তৈরী করে নেয়। শুধুমাত্র বাড়ির সামাজিক রূপের সংস্কার করেই তার সংগ্রামী মন ক্ষান্ত থাকেনি। ধীরে ধীরে আশেপাশের প্রতিবেশীরাও তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পরে। অসুখে বিসুখে, আপদে বিপদে, সেবা সুশ্রুষায়, তার অনমনীয়তার কাছে হার মেনে যায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবিকারাও। আর তার সাথে চলতে থাকে অবৈতনিক শিক্ষাদানের কাজ - কারো বৌদি, কারো কাকিমা, কারো বা শুধুই দিদিমণি - এই পরিচয়েই তার সংগ্রামী জীবন ফুলে ফেঁপে ওঠে। জীবনসংসারের তাগিদে সে হয়তো অনেক কিছু মানিয়ে নেয় কিন্তু মন থেকে মেনে নিতে পারেনা চটুতা, চপলতা আর মিথ্যাচারীতা। সে সব কিছু মেনে নিলেও মেনে নেয়নি পড়াশুনার সাথে কোনো রকম সমঝোতা। তার মতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নিয়ে মান - হুঁশ হতে হবে, চাই মানসিকতার উত্তরণ, দৃঢ় অথচ পরিশীলিত মানসিক গঠন। তাই শত বাধা সত্ত্বেও সে তার আত্মজাকে তৈরী করার চেষ্টা করে সমাজের একজন মান - হুঁশ বানাতে। ছোটবেলা থেকেই সেই চেষ্টায় ছিল না তার কোনো কার্পণ্য। একহাতে মেয়ের পড়ার বই আর অন্য হাতে মেয়ের বাবার সেবা আর তারই সাথে ছিল একান্নবর্তী পরিবারের প্রতি সুনিপূন কর্তব্যকর্ম - এভাবেই  কাটত বেপরোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দামাল মেয়েটির জীবন। তবে সে কিন্তু কোনোদিন থেমে যায় নি, পরিশ্রান্ত হয়নি। ক্লান্তির হাত তাকে স্পর্শ করতে পারেনি কোনো অবস্থাতেই। কারণ সে যে হারতে জানে না - তার নামের মধ্যে দিয়েই সে জগতকে ভোরের ঊষার আলোয় জাগাতে চায় - তার তো ঘুমিয়ে থাকার উপায় নেই। তাইতো সে একদিকে যেমন কর্তব্য নিষ্ঠাপরায়ণ বধূমাতা, অপরদিকে সেবাপরায়ণ স্ত্রী আর সেই সাথে অন্যদিকে কঠোর সত্যনিষ্ঠ অথচ স্নেহময়ী মা।

তবে আজও সে জানেনা সে সফল কিনা। সে হয়ত আজও বা ভেবে চলে - নতুন কিছু ভাবনার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না। জীবনের প্রায় শেষপ্রান্তে এসে সে দেখতে পায় তার নিজের হাতে তৈরী করা পাল তোলা নৌকা এগিয়ে যায় পত্ পত্ করে। সে তার আত্মজার মধ্যে দিয়ে দেখতে পায় তার তৈরী করা ছোট্ট একখানি কুঁড়েঘরকে - সেখানে সে মায়ের মতো পিদিম জ্বালিয়ে বসে থাকে আর স্বপ্ন দেখে সুস্থ সবল সমাজের - সেখানে সুস্থ সুন্দর সত্যিকার মান - হুঁশ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার অতি প্রিয় রতন তার আত্মজা।

জানোতো - গল্পটি কার - এই গল্পটি আমার গর্ভধারিনী মায়ের - এই সংগ্রামী জীবনের কিছুটা শোনা আর বেশীটাই যে আমার দেখা। এ দেখা আজও চলছে। আশা রাখি চলবে অনন্তকাল।
Jayatee Banerjee




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.

রঙিন বসন্ত বনাম সাদা কালো দুনিয়া


কথাটা যেন "সোনার পাথর বাটি"র মতই সত্য। তবে সব কথাই তো আর সত্য হয় না। শীত যেন যাই যাই করে যায় না - তাইতো মনে হয় কোনো এক নিদ্রাহারা রাতে এ গান কথক বাঁধবে কীকরে। আকাশে আজ কোন চরণের আসা যাওয়া আর বাতাসেই বা আজ কোন পরশের লাগে হাওয়া। এভাবেই ফাগুনের শেষপ্রান্তে বসে ফাগুন হাওয়া ছড়িয়ে দিতে দিতে কখন যেন চার দেয়ালের কুঠুরিগুলো বলে ওঠে "রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো এবার যাওয়ার আগে।" তবে এই যাওয়া কি আর সেই যাওয়া। এযে - সময় কারো যে নাই, ওরা চলে দলে দলে, গায় হায় ডুবে যায় কোন কোলাহলে। পাষাণে রচিছে কত কীর্তি ওরা সবে বিপুল গরবে, যায় আর বাঁশি পানে চায় হাসিচ্ছলে। তাইতো এযে ঋতুচক্রের এক স্বাভাবিক পরিবর্তন। চারিদিকে পলাশ শিমূল কৃষ্ণচূড়ার রঙে আগুন লাগানো পরিবেশ আর তার সাথে কোকিলের কুহুতান। খুব পরিচিত গানের সুরে এ বসন্ত ও তো দামী - কিন্তু তা যে মুষ্টিমেয় লোকের কাছে। তাইতো গলা ছেড়ে বলতে ইচ্ছে করে - বসন্ত, তোর শেষ করে দে, শেষ করে দে, শেষ করে দে রঙ্গ - ফুল ফোটাবার খ্যাপামি, তার উদ্দাম তরঙ্গ। কুইটো শহর হল চিরবসন্তের দেশ। সেই শহরের মত প্রতিদিনের ব্রাহ্মমুহূর্তে আমরা কি বলতে পারি - আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। এই একশো কোটির উন্নয়নশীল দেশে দাঁড়িয়ে বুভুক্ষু মানুষের দিকে তাকিয়ে কি আমরা বলতে পারি - ফুল ফুটুক আর না ফুটুক বসন্ত এসে গাছে। এই দখিন হাওয়া যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে যায়। মনে পরে - পিছের বাঁশি কনের ঘরে মিছে যে কেঁদে মরে, মরণ এবার আনল বোধহয় আমারই বরণ ডালা। তাইতো এই আবীর ভেজানো রঙিন দিনে "সাদাকালো" শব্দটাই যেন কেমন বেমানান। উড়িয়ে দেবার ছড়িয়ে দেবার মাতন থামলেই যেন নীড়ে ফিরে আসে পথহারা বিহঙ্গের দল। কিন্তু এ ফেরা তো কোনো নবীন বসন্তের ফেরা নয়। বাঁধন ছিন্ন করা আনন্দে আকূল প্রাণের সাগর তীরে বসে ধীরে ধীরে আজকের যুবসমাজ বোধহয় হারিয়ে যেতে থাকে কোনো এক নিঃসীম শূন্যে। এই সাদাকালো দুনিয়াটি যে বড্ড কঠিন, কণ্টকাকীর্ণ। কিন্তু এখানে যে অনেক হাতছানি। সাদাকালোর পৃথিবীতে তরুণ হাসির আড়ালে কোন আগুন যে ঢাকা রয়ে যায় - সে যে বড় বিস্ময়। যে যৌবনের ঝড় ওঠে আকাশে পাতালে সেই ঝড়ের দুর্নিবার আকর্ষণ যেন যুবসমাজকে ঠেলে দেয় অন্ধকারের পথে। তারা যে ঘোষণা করে দেয় সাদাকালো পৃথিবীতে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই - ছোট সে তরী। আসলে সেই রুদ্ধ দুয়ার যে আগল দিয়ে আটকানো। তারা যেন একেকজন পথ ভোলা পথিক।  কিন্তু এই দুনিয়াটি কাঁচের মতই স্বচ্ছ, ধূসর পাতে মোড়া - হবে বা তাই।  কিন্তু কেন জানি মনে হয় এই নিষিদ্ধ দুনিয়ায় আমরা বোধহয় অংশীদারীত্ব নিতে পারি নি। সেখানে কি আমাদের প্রবেশ নিষেধ - যুবসমাজের কাছে রঙিন বসন্তের পেছনে যে সাদাকালোর হাতছানি রয়েছে ; সেখানে যে আমার তোমার প্রবেশ নিষেধ।  চারিদিকের রঙিন প্রলোভন সহজেই স্বপ্নের সিঁড়িভাঙা কুরূচির প্রতি আকর্ষণ আর সর্বোপরি বাঁধনহারা মনোভাব এসবকিছুই যেন সাদাকালো পৃথিবীর অঙ্গ। কেন যুবসমাজ এই পথে পা বাড়ায়। সেখান থেকেই জন্ম হয় অবসাদগ্রস্ত জীবনের। বৈভব ও প্রাচুর্যতার মধ্যেই তারা খুঁজে নেয় একাকিত্বকে। এই দুনিয়াতেই ডুবে যায় বর্তমান প্রজন্ম। বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট, অসহিষ্ণুতার বৃদ্ধি, বেকারত্বের আবছায়া আলো - কোনোখানেই যেন অরুণোদয় হয় না। এই রঙিন রাজত্বের আছে হাতছানি তবে নেই কোনো নিরাপত্তা, স্রোতে গা ভাসিয়ে যুবসমাজ হারিয়েছে তাদের মনুষ্যত্বকে।  তাইতো যেখানে নেই সুস্থ পরিবেশে বেঁচে থাকার রসদ সেখানে কীকরে বসন্তের রঙিন ফুল ফুটবে। আজকের যুবসমাজের কাছে বোধয় বসন্তের রঙিন সুবাষ পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটির মতই অব্যক্ত এক ভাষা। তারা যে জানে না - কোথায় রাশ টানতে হয়। তাদের জীবন চলার ডিক্শনারী থেকে হারিয়ে গিয়েছে নিজে ভাল থাকার ওপর নামই অন্যকে ভাল রাখা। তারা জানেনা সম্মান দিলেই সম্মান পাওয়া যায়। স্বেচ্ছাচারীতা , অসহিষ্ণুতা যুবসমাজকে ঠেলে দিয়েছে এক অন্ধকারময় জীবনে। সেই জীবন থেকে বেরিয়ে আসবার পথ বলে দেওয়ার কেউ নেই। এই পথ যে বড্ড চড়াই উতরাই - আমাদের মত অভিভাবকরা কি পারিনা তাদের মানিয়ে নিতে , মেনে নিতে।

কিন্তু তাই বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে কি চলবে ? এই মুশকিল আসানের দায়িত্ব যে বর্তায় আমাদেরই ওপর। সমাজের যে রক্ষনশীল পদে আমরা আসীন রয়েছি  - সেখানে আমরা কখনোই পারবোনা মুখ বুজে থাকতে , চোখ বন্ধ করে থাকতে - কারণ :

"অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সমদহে "
Jayatee Banerjee




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.