Visit Our Educational Blog

Visit Our Educational Blog
A WAY TO LEARN & IMPROVE YOUR SKILLS ONLINE

Tuesday, May 8, 2018

বন্ধন

সংসার - সম + সার : বড্ড কঠিন এই দুটো শব্দ। যার মায়াজালে জড়িয়ে রয়েছি আমরা - হ্যাঁ , আমরা যারা কিনা সমাজের "সমাজ" নামক দুরারোগ্য ব্যাধির ফসল। আমরা যারা সংসারী মানুষ , যারা কিনা সামাজিক জীব তারা কি পারি এই ব্যাধির অক্টোপাস থেকে নিজেকে মুক্ত করতে ? আমরা তো অবলা জীব মাত্র - যাকে ঘিরে রয়েছে মোহ , মুক্তি , প্রেম , ভালবাসা , দুঃখ , বেদনা , মূল্যবোধ , কর্তব্য প্রভৃতি আরো অনেক ভারী ভারী শব্দ। এই অক্টোপাসের নামই হল মায়া।

মায়া - যেকিনা জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে আমাদের পিছু ধাওয়া করে চলেছে। মায়া - প্রেম না ভালবাসা - এ প্রশ্নের উত্তর বড় কঠিন।  একজন সন্যাসীর জীবন মায়াশুন্য , আবার যে মানুষটি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে দৃষ্টির অন্তরালে , সে কি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেছে ? হয়তো বা করেছে। কিন্তু তার প্রকৃত সত্যতা কোথায় ? কোথায় রয়েছে বন্ধন - এই বন্ধন ই হল এক বা একাধিকের সাথে জড়িয়ে পড়ার আসক্তি। কিন্তু এই মায়া - এযে বড় কঠিন জিনিস। রবীন্দ্র রচনাবলীতে এর পূর্ণফলন যেন আমরা প্রতিটি মুহূর্তেই পাই। সেই জমিদার বাড়ির মেয়ে এই মায়ার জালেই জড়িয়ে পড়ে এক স্বদেশীর ব্রাহ্মণত্ব কে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু আবার "ঘরে বাইরে" র  সন্দীপ হয়ত বা মোহের বশবর্তী হয়েই এই দৃড় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছিল। সেটা কি শুধুই মোহ প্রদর্শন।  রবীন্দ্র পরবর্তী যুগেও কিন্তু এই মোহ মায়ার ধারা অব্যাহত। তবে এই মোহ কি আপেক্ষিক নাকি আধুনিকতার সাহায্য নিয়ে বলতে হয় তা প্রদর্শিত মাত্র। তাইতো আজকের নারী স্বাধীনতার পরবতী যুগেও ভোগ্য পণ্য - এর নাম কিন্তু আকাঙ্খা। এই আকাঙ্খার জন্ম আবার মোহ থেকে। কাজেই মোহর অপর অর্থ বন্ধন। যে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমরা জড়িয়ে পড়ি সংসারের পাঁকে। কিন্তু এখানেই শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের কথাটি আমাদের স্মরণে রাখতে হবে - "সংসারে সং সেজে ঠেকতে হয়, পাকাল মাছের মত থাকতে হয়, সংসারে থেকেও সংসারের কাদা গায়ে মাখা যাবে না।" এই মায়াময় মোহময় পৃথিবীতে সকলেই আমরা এক মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ।



পুরাণে দেখি , পাঞ্চালীও শেষপর্যায়ে পঞ্চপাণ্ডবের সাথে স্বর্গারোহণ করার সময় মায়ার বন্ধনেই পা পিছলে পরে যায়। কারণ , পাঞ্চালী যে সত্যের আলাপ করে মায়ায় জড়িয়ে পড়েছিল। পাঁচ স্বামী থাকা সত্বেও অর্জুনের প্রতি পক্ষপাত দুষ্টে সে দোষী। আর কৌন্তেয় - যার কিনা দুহাত সমান চলে - সেই সব্যসাচী - যে সারা জীবন অন্যের খুশীর ভার নিজের কাঁধে নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিল। এরই নাম মায়া। কুরুক্ষেত্রে সূতপুত্রের যবনিকা পতনের পর ও সেই দায়ভার অর্জুনকে মাথা পেতে নিতে হয়েছে। মাতা কুন্তীর তার প্রতি কি নিদারুণ বিষোদ্গার - আমাদের মরমী মনকে নাড়া দিয়ে যায়। আবার যে যাজ্ঞসেনীর জন্য অর্জুনের সারা কাহিনী জুড়ে আত্মদংশন , তার মনেও কিন্তু রাধেরও প্রতি কোনো ব্যথিত হৃদয় উঁকি মারে। একই অর্জুনের পক্ষে লজ্জা নয় - এরই নাম মায়া। যার থেকে জন্ম নেয় প্রেম , ভালোবাসা ,অধিকার।

সেইযে একটা কথা আছে না - স্বাধীনতা ভাল কিন্তু স্বেচ্ছাচারিতা ভাল নয়। ঠিক সেভাবেই বলতে হয় , মায়ার বশবর্তী হওয়া ভাল কিন্তু অন্ধ মায়ায় জড়িয়ে পড়া ভাল নয়। যার ফল আমরা দেখি - অষ্টাদশ দিবসের যুদ্ধের শেষে পুত্রস্নেহে অন্ধ নিঃসন্তান গান্ধারী অর্জুনের সারথী কৃষ্ণকে শাপশাপান্ত করছেন এই বলে যে , এমনি করেই একদিন কালের অতল তলে কুরুবংশের মত যদু বংশ অবলুপ্ত হয়ে যাবে। এরই নাম মায়া।

পুরাণের কথা বাদ দিয়ে আমরা যদি বাস্তবে ফিরে আসি , তাহলেও দেখব - এই বিশ্ব সংসার মায়ার জালে আবদ্ধ। মায়া - এযে বড় কঠিন , আবার তার সাথে হৃদয় বিদারক বটে। তাইতো শরতবাবুর সতীশ সমাজের চোখে আড়াল করেও বার বার সাবিত্রীর কাছে ধরা পরে গিয়েছে। যার থেকে সতীশ আর শেষ অবধি বেরোতে পারেনি। হয়ত বা চায়ও নি। আমাদের মত সাধারণ জীবনে মায়ার বন্ধন ছিন্ন হলেই আমরা আশাহত হয়ে পড়ি। শিলং পাহাড়ে অমিত তার বংশ মর্যাদা ছেড়ে বেরিয়ে এসেও লাবণ্যর হাতছানিতে ধরা দিতে পারেনি। নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনা কলকাতার কেটি মিত্তিরের জগতের সাথে। তার থেকেই জন্ম নেয় অবসাদ। যার শিকার আজ ১৫০ কোটি জনসংখ্যার দেশের প্রায় পঁচাত্তুর শতাংশ মানুষ। অবসাদের জন্ম হয় কিন্তু এই মোহমায়া থেকেই। নতুন বৌঠানের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ ও মোহভঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন , তার জীবনে নেমে এসেছিল অবসাদ। এই সম্পর্কই একসময়ে মায়ার বশবর্তী হয়ে পরে - যে মায়া আমাদের আবদ্ধ করে রেখেছে। কিন্তু সামাজিক সম্পর্ককে কি আমরা অস্বীকার করতে পারি ? পারি কি ? - মায়ার বন্ধন , রক্তের বন্ধন , সম্পর্কের বন্ধনকে ছিড়ে বেরিয়ে আসতে।  পারিনা , কারণ , আমরা যে সমাজবদ্ধ জীব - আমরা যে মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ। তাইতো আজ জীবনের দ্বিপ্রহরে এসে আমরা উপলব্ধি করি , যা যায় তা চলেই যায় - যা থাকার নয় তাকে আটকে রাখা যায় না। রাখালছেলের গাঁয়ের মটরশুঁটিও যে পা জড়িয়ে ধরে বলে - যেতে নাহি দেব / তবু যেতে দিতে হয় , তাইতো নিজেকে মোহমুক্ত করেই এগিয়ে যেতে হবে - এরই নাম জীবন। পিছিয়ে পড়লে চলবে না - এখনো যে অনেক কাজ বাকী।
Jayatee Banerjee




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.

নারী ও জীবন

"ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু
পথে যদি হারিয়ে..................."

হ্যাঁ সত্যিই পথ হারানোর মতই এক গল্প। তবে পথ ভোলা পথিক তো নয় যেন নতুন আলোর দিশারী। আজ যে গল্পটাকে লিখব বলে কলম ধরেছি - সে বড় কঠিন কাজ।  বড় দুরূহ , কষ্টসাধ্য। তবে শুরু যখন করলাম, মাভৈ বলে : সমুদ্রে ঝাঁপ দিলাম - তার তো একটা শেষ আছেই। দেখা যাক সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করে কতদূর যাওয়া যায়।

সংগ্ৰামী জীবন : কথাটার তাৎপর্য বড়ই ব্যপ্ত, বিস্তীর্ণ, একে দ্বাররুদ্ধ করে রাখা যায় না আবার স্রোতের হাওয়ায় মিশিয়েও দেওয়া যায় না। তবে যার কথা ভেবে এই লেখনীকে আশ্রয় করেছি সে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয় বা তথাকথিত এন. জি. ও. তে কাজ করা কোনো সমাজসেবীও নয়। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের সামাজিক প্রেক্ষাপটেই তৈরী হয়েছিল তার সমাজে এগিয়ে যাওয়ার পাথেয়। সে সম্বল করে নিয়েছিল তার পুঁথিগত বিদ্যা তথা শিক্ষা আর তথাকথিত আধুনিক মানসিকতাকে। পঞ্চাশের দোড়গোড়ায় তখনও আমাদের মানসিক গঠন পূর্ণতা পায়নি, "জন্মেছি যখন দাগ কেটে যাব" - এই চিন্তাধারা পোষণ করতে শিখিনি, রক্ত মাংসে গড়া মানুষ হতে চেয়েছিলাম, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটেই কীভাবে যেন বেড়ে উঠেছিল এই মেয়েটি। চেয়েছিল পড়াশোনা শিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নিয়ে মান - হুঁশ হতে।



উত্তরবঙ্গের কোনো এক প্রত্যন্ত চা বাগানে বড় হয়ে উঠেছিল এই ছোট্ট মেয়ে। সে যে নাগরাকাটার সবুজ মোড়া চা বাগানের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে অর্কর মতো স্বপ্ন দেখত - স্বাধীন সমাজের। যে সমাজে থাকবেনা উচ্চ - নীচের ভেদ, চারিদিকে হাহাকার। শ্লীলতাহানী, নির্যাতন, ধর্মের নামে ভ্রষ্টামি - এরকমই দুর্বোধ্য শব্দগুলি যাবে সমাজ থেকে মুছে। কিন্তু সে যে তখন খুবই ছোট, বাবা - মায়ের হাত ছাড়া হতে পারেনি তখনও। কিন্তু বয়সে ছোট হলে কি হবে, তার মন উড়ে যেত গোর্কি, নিকোলাই অস্ত্র ভোস্কির দেশে - যেখানে একজন সাধারণ মা তার ছেলে পাভেলকে এগিয়ে দেয় রক্তে রাঙা বিপ্লবের পথে। সেই ছোট্ট মেয়েটির হাত ধরেই প্রত্যন্ত চা বাগানের একটি স্কুলের হয় গোড়াপত্তন। আর মেয়েটির জীবনের প্রথম তথা স্কুলটির প্রধান শিক্ষক তার কানে ঢুকিয়ে দেয় জীবন চলার অভয়মন্ত্র - যে অভয়বানীকে সম্বল করে সেই বাহ্যকলেবরহীন বিদ্যালয়টির মতো সেও এগিয়ে চলে জীবনযুদ্ধে। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেনি তার জীবনরথ - সেখান থেকে উত্তরণ শহরের এক অখ্যাত বিদ্যালয়ে। একান্নবর্তী পরিবারের আর পাঁচজন ভাইবোনের সাথে মিলেমিশে থাকলেও তার স্বাতন্ত্রতা চোখে পড়তে দেরী হয় নি কারোরই। বাড়ির কাকু পিসিরা ছোটবেলাতেই তাকে আখ্যায়িত করে "দিদিমণি" নামে। যুক্তির অভাবে তৎকালীন সমাজ পরিবারের অনেক কথাই তার জীবনকে ছাঁচে ফেলে দিতে পারেনি। সেই সময়ের প্রিইউনিভার্সিটির গন্ডি পার হয়ে সে এসে দাঁড়ায় মহাবিদ্যালয়ের বিশাল প্রাঙ্গণে। তখন সে অনেক স্বাধীন। আর পাঁচটা মেয়ের মতো পুতুল খেলার সংসারে সে বিশ্বাসী নয়। ছেলের দলের সাথে পাল্লা দিয়ে সে সমাজ, সামাজিকতা, তৎকালীন প্রেক্ষাপট নিয়ে গলা মেলাতে থাকে। তার চলনবলন আচার আচরণ বুঝিয়ে দেয় নারী মাত্রই অবলা জীব নয়। পোশাকে আধুনিক না হয়ে মানসিকতাতেও আধুনিক হয়ে ওঠা যায় - তাই ছিল তার দর্শন। ষাটের দশকে প্রত্যন্ত শহরগুলিতে মেয়েদের অবস্থান কিন্তু কখনোই ছেলেদের সাথে এক সারিতে নয়। কিন্তু তাই মেয়েটি - সে তার জেদ, সাহসিকতা আর একনিষ্ঠতা দিয়ে আদায় করে নেয় নিজের স্থান। পারিপার্শ্বিক সমাজব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে সে পাড়ি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ে - সাথে থাকে শুধু তার অধ্যাবসায়ের মানপত্র আর মনের জোর। জড়িয়ে পড়ে সেই সময়কার রাজনৈতিক আন্দোলনে। ষাটের দশকের বিপ্লবী মনোভাবকে নিজের মনের ভিতরে পেরেক দিয়ে গেঁথে নেয় - যার ফল আজও প্রতিটি ক্ষেত্রে জাজ্বল্যমান। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মিটিং মিছিল তার সুপ্ত স্বপ্নকে জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে আর সেও  দেখতে শুরু করে স্বপ্ন। কিন্তু বাঁধ সাধে প্রকৃতি, বাঁধ সাধে সমাজ। সে যে মেয়ে, সে যে যুবতী - তাইতো তার ঘরের ঠিকানা যে অস্থায়ী, তাকেও চলে যেতে হয় ঘোমটার আড়ালে। তার দুর্ভাগ্য - মাধবীলতার মত অনিমেষকে সে পায়নি - তবে আর একধরণের কণ্টকময় পরিবেশে শুরু হয় তার জীবনের দ্বিতীয় আর দীর্ঘ অধ্যায়। সেখানে সে ভুলে যেতে বসে তার অস্তিত্ব। শুরু হয় তার জীবনসংগ্রামের অন্তিম আর কঠিন থেকে কঠিনতর সংগ্রামী পালা। গোর্কি, মার্কস ছেড়ে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয় রাঁধার পর বাড়া আর বাড়ার পর রাঁধা - এই জীবনে। নতুন জীবনের প্রতিটি দিন কাটে তার হাঁড়ির জলে হাত ডুবিয়ে। নতুন সংসারে এসে সব মেয়েরা যখন রঙিন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তখন সে নিজেকে পরিচিত করে নতুন বউ হিসেবে নয়, একজন দক্ষ সেবিকা হিসেবে। সাংসারিক কর্তব্যে আর রুগী সেবা করতে করতে ভুলে যায় সমস্ত রকম আমোদ আহ্লাদ। কিন্তু তাতে তার মন ভেঙে যায় না। কারণ সে যে শুধুই রক্তেমাংসে গড়া মানুষ হতে চায়নি। সে চেয়েছিল একজন আদর্শবাদী নারী হতে। যে মেয়ের শুধুমাত্র সংসারটা পুতুল খেলার না হয়ে, হয়ে উঠবে মানুষ গড়ার সংসার, মানুষ গড়ার কারখানা। সে নিজেও জানেনা সে আজ সফল কিনা - তবে তার অক্লান্ত পরিশ্রম বাস্তব রূপদানের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নি। পারেনি একজন আদর্শ মায়ের মর্যাদা থেকে চ্যুত করতে। তাইতো সে মুখ বুজে অপেক্ষা করত সেই দিনটার - যে দিনটাতে সূর্য উঠবেই। এইভাবে নতুন সংসারেও সে হয়ে ওঠে অনিবার্য। তাকে শ্বশুড়বাড়িতে - অনেকটা যেন ছাই ফেলতে ভাঙা কুলোর মতই তার অবস্থা হয়। কিন্তু কেউ তাকে আটকে রাখতে পারেনা। নিজের ভাল থাকা, ভাল খাওয়া আর ভাল পড়া কে বিসর্জন দিয়ে পরের জন্য বিসর্জন দেয় নিজেকে। সে বলে - জীবনটা শুধু নিজের জন্য নয় - এটুকু জীবনে কত কী করবার আছে। সে যে ছোট থেকেই বহুজন হিতায় বহুজন সেবায় : মন্ত্রে দীক্ষিত। রক্তের সম্পর্ক না থেকেও যে হয়ে ওঠে সংসারের প্রত্যেকের কাছে অপরিহার্য্য।




সমস্ত ক্ষেত্রেই তার মতামত, উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ে। তার ব্যাপ্তি হয়তো চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ থেকেছে কিন্তু তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কাছে নতিস্বীকার করতে হয়েছে সাংসারিক কূটনীতিকে। সে তার সংগ্রামী সুবুদ্ধি দিয়ে জং ধরে যাওয়া সংসারকে টেনে নিয়ে গিয়েছে অনেক দূর তবু তার এই সংসার সংগ্রাম কিন্তু থেমে থাকে নি শুধুমাত্র তিনজনের মধ্যে। সে তার ঐ তেজোদ্দীপ্ত সংগ্রামী জীবনকে উৎসর্গ করতে কখনো পিছুপা হয়নি, একান্নবর্তী পরিবারের জন্য। তার নিরলস প্রচেষ্টাতেই পায়ের নীচের শক্ত ভিত খুঁজে পেয়েছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা - একদিন কিনা যারাই তাকে আখ্যায়িত করেছিল সেই দিনের স্বাধীনচেতা বউ বলে। কিন্তু সে যে মনে করে সে বোধহয় ভাগ্যহীনা দলের স্থায়ী সদস্যা। তবুও তার সংগ্রামী মন হার মানে না - হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে; তোমায় আমায় দেখা হবে সেই মিলনের পরে। তাই তার সংগ্রামী মনকে দমিয়ে রাখতে পারেনি পারিপার্শ্বিক কীটানুকীটের দল। কুসংস্কারাচ্ছন্ন একান্নবর্তী পরিবারেও সে নিজের আত্মসম্মান, পড়াশুনা, পরিশীলিত রূচিবোধের আর সর্বোপরি কর্তব্যপরায়ণতার জোরে নিজের আসন তৈরী করে নেয়। শুধুমাত্র বাড়ির সামাজিক রূপের সংস্কার করেই তার সংগ্রামী মন ক্ষান্ত থাকেনি। ধীরে ধীরে আশেপাশের প্রতিবেশীরাও তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পরে। অসুখে বিসুখে, আপদে বিপদে, সেবা সুশ্রুষায়, তার অনমনীয়তার কাছে হার মেনে যায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবিকারাও। আর তার সাথে চলতে থাকে অবৈতনিক শিক্ষাদানের কাজ - কারো বৌদি, কারো কাকিমা, কারো বা শুধুই দিদিমণি - এই পরিচয়েই তার সংগ্রামী জীবন ফুলে ফেঁপে ওঠে। জীবনসংসারের তাগিদে সে হয়তো অনেক কিছু মানিয়ে নেয় কিন্তু মন থেকে মেনে নিতে পারেনা চটুতা, চপলতা আর মিথ্যাচারীতা। সে সব কিছু মেনে নিলেও মেনে নেয়নি পড়াশুনার সাথে কোনো রকম সমঝোতা। তার মতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নিয়ে মান - হুঁশ হতে হবে, চাই মানসিকতার উত্তরণ, দৃঢ় অথচ পরিশীলিত মানসিক গঠন। তাই শত বাধা সত্ত্বেও সে তার আত্মজাকে তৈরী করার চেষ্টা করে সমাজের একজন মান - হুঁশ বানাতে। ছোটবেলা থেকেই সেই চেষ্টায় ছিল না তার কোনো কার্পণ্য। একহাতে মেয়ের পড়ার বই আর অন্য হাতে মেয়ের বাবার সেবা আর তারই সাথে ছিল একান্নবর্তী পরিবারের প্রতি সুনিপূন কর্তব্যকর্ম - এভাবেই  কাটত বেপরোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দামাল মেয়েটির জীবন। তবে সে কিন্তু কোনোদিন থেমে যায় নি, পরিশ্রান্ত হয়নি। ক্লান্তির হাত তাকে স্পর্শ করতে পারেনি কোনো অবস্থাতেই। কারণ সে যে হারতে জানে না - তার নামের মধ্যে দিয়েই সে জগতকে ভোরের ঊষার আলোয় জাগাতে চায় - তার তো ঘুমিয়ে থাকার উপায় নেই। তাইতো সে একদিকে যেমন কর্তব্য নিষ্ঠাপরায়ণ বধূমাতা, অপরদিকে সেবাপরায়ণ স্ত্রী আর সেই সাথে অন্যদিকে কঠোর সত্যনিষ্ঠ অথচ স্নেহময়ী মা।

তবে আজও সে জানেনা সে সফল কিনা। সে হয়ত আজও বা ভেবে চলে - নতুন কিছু ভাবনার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না। জীবনের প্রায় শেষপ্রান্তে এসে সে দেখতে পায় তার নিজের হাতে তৈরী করা পাল তোলা নৌকা এগিয়ে যায় পত্ পত্ করে। সে তার আত্মজার মধ্যে দিয়ে দেখতে পায় তার তৈরী করা ছোট্ট একখানি কুঁড়েঘরকে - সেখানে সে মায়ের মতো পিদিম জ্বালিয়ে বসে থাকে আর স্বপ্ন দেখে সুস্থ সবল সমাজের - সেখানে সুস্থ সুন্দর সত্যিকার মান - হুঁশ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার অতি প্রিয় রতন তার আত্মজা।

জানোতো - গল্পটি কার - এই গল্পটি আমার গর্ভধারিনী মায়ের - এই সংগ্রামী জীবনের কিছুটা শোনা আর বেশীটাই যে আমার দেখা। এ দেখা আজও চলছে। আশা রাখি চলবে অনন্তকাল।
Jayatee Banerjee




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.

রঙিন বসন্ত বনাম সাদা কালো দুনিয়া


কথাটা যেন "সোনার পাথর বাটি"র মতই সত্য। তবে সব কথাই তো আর সত্য হয় না। শীত যেন যাই যাই করে যায় না - তাইতো মনে হয় কোনো এক নিদ্রাহারা রাতে এ গান কথক বাঁধবে কীকরে। আকাশে আজ কোন চরণের আসা যাওয়া আর বাতাসেই বা আজ কোন পরশের লাগে হাওয়া। এভাবেই ফাগুনের শেষপ্রান্তে বসে ফাগুন হাওয়া ছড়িয়ে দিতে দিতে কখন যেন চার দেয়ালের কুঠুরিগুলো বলে ওঠে "রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো এবার যাওয়ার আগে।" তবে এই যাওয়া কি আর সেই যাওয়া। এযে - সময় কারো যে নাই, ওরা চলে দলে দলে, গায় হায় ডুবে যায় কোন কোলাহলে। পাষাণে রচিছে কত কীর্তি ওরা সবে বিপুল গরবে, যায় আর বাঁশি পানে চায় হাসিচ্ছলে। তাইতো এযে ঋতুচক্রের এক স্বাভাবিক পরিবর্তন। চারিদিকে পলাশ শিমূল কৃষ্ণচূড়ার রঙে আগুন লাগানো পরিবেশ আর তার সাথে কোকিলের কুহুতান। খুব পরিচিত গানের সুরে এ বসন্ত ও তো দামী - কিন্তু তা যে মুষ্টিমেয় লোকের কাছে। তাইতো গলা ছেড়ে বলতে ইচ্ছে করে - বসন্ত, তোর শেষ করে দে, শেষ করে দে, শেষ করে দে রঙ্গ - ফুল ফোটাবার খ্যাপামি, তার উদ্দাম তরঙ্গ। কুইটো শহর হল চিরবসন্তের দেশ। সেই শহরের মত প্রতিদিনের ব্রাহ্মমুহূর্তে আমরা কি বলতে পারি - আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। এই একশো কোটির উন্নয়নশীল দেশে দাঁড়িয়ে বুভুক্ষু মানুষের দিকে তাকিয়ে কি আমরা বলতে পারি - ফুল ফুটুক আর না ফুটুক বসন্ত এসে গাছে। এই দখিন হাওয়া যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে যায়। মনে পরে - পিছের বাঁশি কনের ঘরে মিছে যে কেঁদে মরে, মরণ এবার আনল বোধহয় আমারই বরণ ডালা। তাইতো এই আবীর ভেজানো রঙিন দিনে "সাদাকালো" শব্দটাই যেন কেমন বেমানান। উড়িয়ে দেবার ছড়িয়ে দেবার মাতন থামলেই যেন নীড়ে ফিরে আসে পথহারা বিহঙ্গের দল। কিন্তু এ ফেরা তো কোনো নবীন বসন্তের ফেরা নয়। বাঁধন ছিন্ন করা আনন্দে আকূল প্রাণের সাগর তীরে বসে ধীরে ধীরে আজকের যুবসমাজ বোধহয় হারিয়ে যেতে থাকে কোনো এক নিঃসীম শূন্যে। এই সাদাকালো দুনিয়াটি যে বড্ড কঠিন, কণ্টকাকীর্ণ। কিন্তু এখানে যে অনেক হাতছানি। সাদাকালোর পৃথিবীতে তরুণ হাসির আড়ালে কোন আগুন যে ঢাকা রয়ে যায় - সে যে বড় বিস্ময়। যে যৌবনের ঝড় ওঠে আকাশে পাতালে সেই ঝড়ের দুর্নিবার আকর্ষণ যেন যুবসমাজকে ঠেলে দেয় অন্ধকারের পথে। তারা যে ঘোষণা করে দেয় সাদাকালো পৃথিবীতে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই - ছোট সে তরী। আসলে সেই রুদ্ধ দুয়ার যে আগল দিয়ে আটকানো। তারা যেন একেকজন পথ ভোলা পথিক।  কিন্তু এই দুনিয়াটি কাঁচের মতই স্বচ্ছ, ধূসর পাতে মোড়া - হবে বা তাই।  কিন্তু কেন জানি মনে হয় এই নিষিদ্ধ দুনিয়ায় আমরা বোধহয় অংশীদারীত্ব নিতে পারি নি। সেখানে কি আমাদের প্রবেশ নিষেধ - যুবসমাজের কাছে রঙিন বসন্তের পেছনে যে সাদাকালোর হাতছানি রয়েছে ; সেখানে যে আমার তোমার প্রবেশ নিষেধ।  চারিদিকের রঙিন প্রলোভন সহজেই স্বপ্নের সিঁড়িভাঙা কুরূচির প্রতি আকর্ষণ আর সর্বোপরি বাঁধনহারা মনোভাব এসবকিছুই যেন সাদাকালো পৃথিবীর অঙ্গ। কেন যুবসমাজ এই পথে পা বাড়ায়। সেখান থেকেই জন্ম হয় অবসাদগ্রস্ত জীবনের। বৈভব ও প্রাচুর্যতার মধ্যেই তারা খুঁজে নেয় একাকিত্বকে। এই দুনিয়াতেই ডুবে যায় বর্তমান প্রজন্ম। বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট, অসহিষ্ণুতার বৃদ্ধি, বেকারত্বের আবছায়া আলো - কোনোখানেই যেন অরুণোদয় হয় না। এই রঙিন রাজত্বের আছে হাতছানি তবে নেই কোনো নিরাপত্তা, স্রোতে গা ভাসিয়ে যুবসমাজ হারিয়েছে তাদের মনুষ্যত্বকে।  তাইতো যেখানে নেই সুস্থ পরিবেশে বেঁচে থাকার রসদ সেখানে কীকরে বসন্তের রঙিন ফুল ফুটবে। আজকের যুবসমাজের কাছে বোধয় বসন্তের রঙিন সুবাষ পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটির মতই অব্যক্ত এক ভাষা। তারা যে জানে না - কোথায় রাশ টানতে হয়। তাদের জীবন চলার ডিক্শনারী থেকে হারিয়ে গিয়েছে নিজে ভাল থাকার ওপর নামই অন্যকে ভাল রাখা। তারা জানেনা সম্মান দিলেই সম্মান পাওয়া যায়। স্বেচ্ছাচারীতা , অসহিষ্ণুতা যুবসমাজকে ঠেলে দিয়েছে এক অন্ধকারময় জীবনে। সেই জীবন থেকে বেরিয়ে আসবার পথ বলে দেওয়ার কেউ নেই। এই পথ যে বড্ড চড়াই উতরাই - আমাদের মত অভিভাবকরা কি পারিনা তাদের মানিয়ে নিতে , মেনে নিতে।

কিন্তু তাই বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে কি চলবে ? এই মুশকিল আসানের দায়িত্ব যে বর্তায় আমাদেরই ওপর। সমাজের যে রক্ষনশীল পদে আমরা আসীন রয়েছি  - সেখানে আমরা কখনোই পারবোনা মুখ বুজে থাকতে , চোখ বন্ধ করে থাকতে - কারণ :

"অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সমদহে "
Jayatee Banerjee




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.

বসন্তের রঙিন পরশে


"ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়"- ফাগুনের আবির্ভাবের সাথে সাথেই যেন মনে হয় বাতাসে আবিরের গন্ধ। শীত বুড়ির বিদায় আর গ্রীষ্মের চোখ রাঙানির অপেক্ষা, দুয়ের মাঝে রঙিন হওয়ায়, রঙের ছোঁয়ায় নিজেকে একটু রাঙিয়ে নেওয়া।

"বারো মাসে তেরো পার্বণ"- এর হুল্লোড়ে মাতোয়ারা বাঙালির জীবনে আরও এক উৎসবের আয়োজন। অবশ্য, রঙের উৎসব শুধু বাঙালির একার নয়। এ উৎসবে মাতে সবাই। কারও মন নেচে ওঠে  'হোরি' র সুরে, কারও কোমর দুলে ওঠে "আয়ী হোলি আয়ী"- র ছন্দে। কেউ আবার রাবীন্দ্রিক ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে পালন করে "বসন্তৎসব।"

যেভাবেই হোক,যেকোনো অছিলায়, একটি দুটি উৎসবমুখর দিন ,একটুখানি আনন্দ- উচ্ছ্বাস, আজকের এই একঘেয়ে গতিময় জীবনে বড়ই প্রয়োজন। আরও এগিয়ে চলার শক্তি পেতে এ যেন একটু রসদ সংগ্রহ। এভাবেই দিন আসে, দিন যায়। "রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও,যাও গো এবার যাবার আগে"- কার চলে যাওয়ার পথে এই আকুল আকুতি? বসন্তদুতের কুহুতানে শুধু বসন্তৎসবের আগমনবার্তা ই বাজে না, জানান দেয় একটি বৎসরের বিদায় বেলা সমাগত। তারই সাথে শুরু নতুন কে বরণ করার আয়োজন।

বসন্ত শুধুই উৎসবের বার্তা বয়ে আনে না, নতুনের ও আভাস দেয়। রুক্ষ, শুষ্ক, ঝরাপাতার দিন ফুরিয়ে নীল দিগন্তে ফুলের আগুন লাগাতে সে প্রস্তুত। একটু গুছিয়ে নিতে না নিতেই চলে আসে তার ও বিদায় বেলা। সময় তার বড়ই সীমিত। ঠিক যেন আমাদের ব্যস্তসমস্ত জীবন। একপল দাঁড়ানোর ফুরসত নেই কারও। বোয়ে চলতে চলতে জীবনের স্রোত কখন মোহনা য় এসে দাঁড়ায়, টের পাওয়াই যায় না। হঠাৎ চমকে সামনে তাকালে দেখা যায়, নতুন কেউ দোর গোড়ায় উপস্থিত। অপেক্ষায়, ' নবীন আনন্দে ' নিজের মতো করে সব সাজিয়ে আপন ডালী তুলে ধরতে।

আটকানোর ক্ষমতা নেই কারও। প্রকৃতি আর জীবন যে প্রায় সমার্থক। এগিয়ে চল, এগিয়ে চল। "যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে"। থামার উপায় নেই তবুও। ফেলে আসা দিন স্মৃতিটুকু পাথেয় করে এগিয়ে চলা। হোক না সে স্মৃতি বেদনাবিধুর। ঝরাপাতারই তো ইঙ্গিত দেয়, নব পল্লবের দিন আসন্ন। রুক্ষ শুষ্ক পথের চরণ চিহ্ন বেয়েই আসে ফাগুনের উতল হওয়া। এই উতল হওয়ায় মাতাল হয়ে, পলাশের আগুন রঙে মন রাঙিয়ে, আগামীর দিকে তাকিয়ে আহ্বান থাকুক -

"নব আনন্দে জাগো"।
Sudipa Ghosh




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.

পারুল - একটি মেয়ে

লেখার জগতে আমি নতুন। অনেক কথা জমা থাকে। কথার ফুলঝুরি তো ফোটাতে পারি না। তাই লিখি। যা ভাবি, লিখে ফেলি, যদি ভাল লাগে - - - -

আজ পারুলের জন্মদিন। পারুল আমাদের বহু পরিচিত সেই মেয়ে যে স্বামী,সন্তান, সংসার আগলে নিজেকেই প্রায় ভুলতে বসেছে। একে একে পঁয়তিরিশটি বসন্ত পার করল সে।আজ দিনটা একটু অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু, সকাল থেকে এখনও পর্যন্ত একটি শুভেচ্ছাও সে পায়নি করো কাছ থেকে।

বাবাকে পারুল হারিয়েছে অনেকদিন আগে। মা বয়সের ভারে অনেক কিছুই মনে রাখতে পারে না এখন। স্বামী!! তার সময় কোথায় ? সারাদিন ছুটছে "টার্গেট" এর পেছনে। বসের চোখরাঙানি, হঠাৎ মিটিং, ডেডলাইন ফলো করা - এত কিছু বোঝেনা পারুল। সে শুধু জানে, তার স্বামী ভীষণ ব্যস্ত। স্ত্রী, সন্তান, সংসারের দিকে তাকানোর সময় নেই তার। আর সন্তানেরা ? দুই সন্তানের মা পারুল। তাদের কাছে জন্মদিনের অর্থ তো "আমার জন্মদিন"। মায়ের জীবনেও যে "জন্মদিন" দিনটা থাকতে পারে , এতো তারা ভাবতেও পারে না। ছোট ছেলের জন্মদিন মানে মায়ের কাছে আবদার - এবারের কেকটা কিন্তু বেশ বড় হওয়া চাই, আমার সব প্রিয় বন্ধুরা আসবে কিন্তু, "Return gift" টা - একটু ভালো দিও। মেয়ে তো এখন বেশ বড়। জন্মদিন - বাড়িতে!! অসম্ভব। এবারেও যদি পার্টিটা ভালো রেস্টুরেন্টে না হয়, তাহলে আর বন্ধুদের কাছে মুখ থাকবে না।



সব কাজের ফাঁকেও আজ পারুলের মাঝে মাঝেই মনে পরে ফেলে আসা কিছু দিনের কথা। বন্ধুদের সাথে হই- হুল্লোড় , দল বেঁধে স্কুলে যাওয়া , পড়তে যাওয়া , পূজো-প্যান্ডেলে আড্ডা দেওয়া, এসব তো ছিল পারুলের জীবনেও। কি করে হারিয়ে গেল ছেলেবেলার সেই বন্ধুরা। আধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে পুরোনো বন্ধুদের নাকি আবার ফিরে পাওয়া যায়, শুনেছে পারুল। কিন্তু জানেনা কিভাবে। কে শিখিয়ে দেবে তাকে ? স্বামীর তো সময় নেই। আর ছেলেমেয়েরা শুনলেই হাসে - ' মা, তুমি ওসব পারবে না'। তাহলে উপায় ! পারুলের জীবন তো স্বামী - সন্তানেই সীমাবদ্ধ। এর বাইরে যে সে কিছু জানে না।

পারুল কাউকে বোঝাতে পারে না, কিছু ইচ্ছে তারও আছে। কাউকে বলে না সে, একটু নিশ্বাস নিতে ইচ্ছে করে তারও। তার জীবনেও একসময়ে ছিল ' জন্মদিন'। তার ' জন্মদিন ' ছিল - মায়ের হাতে তৈরী পায়েসে, ভোরবেলা উঠে মায়ের পূজো দেওয়ায় - শুধু তারই জন্য। আর ছিল বাবার আশীর্বাদের হাত।

সব কাজ শেষে পারুল গিয়ে দাঁড়ায় বাবার ছবির সামনে, জানে, বাবা আজও তার আশীর্বাদের হাত রাখবেন পারুলের মাথায়। মনে পরে বাবা সবসময় বলতেন - নিজেকে ভালোবাসো, তবেই পারবে সবাইকে ভালোবাসতে। সবাইকে ভালোবাসতে হয়ত পারুল পেরেছে। কিন্তু নিজেকে ? আজ তাই অন্তত একটি বার বাবার কথা রাখতে সে নিজেই নিজেকে বলে -

"শুভ জন্মদিন , পারুল "
Sudipa Ghosh




যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।
Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.

আমার রবি

আজ প্রথম আমার এখানে পদার্পন। জানিনা এখানে আমার গ্রহণযোগ্যতা কেমন হবে। তবে আশা রাখি আমি যুগোপযোগী কিছু লেখা আপনাদের দিতে পারবো। কেমন লাগলো জানালে অবশ্যই ভালো লাগবে।

একবিংশ শতাব্দীর দোড়গোড়াতে দাঁড়িয়ে আজ আমি মধ্যগগনে। আকাশ জুড়ে শুনিনু ঐ বাজে – ঠিক এভাবেই জীবনের প্রতিটি অনুভূতিতে , জীবন দর্শনে , জীবনচর্চায় রয়েছ তুমি। রয়েছ জীবনের প্রতিটা ধাপে , প্রতিটি মুহুর্তে। রবির আলো নিজের দেহে মেখে যেমন বেড়ে ওঠে প্রতিটি চারা- গাছ , তেমনি তোমার আলোর দীপ্তিতে আমি সম্পূর্ণ হাওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র। সেই কোনো একসময়ে , সেই ছেলেবেলা – কবেকার সেই দিনগুলো – এখনও যেন স্পষ্ট শুনতে পাই “আমি যদি হতেম ফেরিওয়ালা ……” সেই ডাক। দুপুরবেলা মায়ের পাশে শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যেত “ও কাবুলিওয়ালা, কাবুলিওয়ালা- তোমার ঝুলিতে কী আছে – হাতি আছে , ঘোড়া আছে “। তোমার হাত ধরেই হয়ত বা শিখেছিলাম “ছোট খোকা বলে অ আ , শেখেনি সে কথা কওয়া”। আবার মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার সময় মনে পড়ে “কাল ছিল ডাল খালি , আজ ফুলে যায় ভরে , বল সে তো তুই মালী হয় সে কেমন করে”। আর একটু বড় হয়ে শিখেছি




“মেঘের মাঝে যারা থাকে ,
“তারা আমায় ডাকে , আমায় ডাকে ,
বলে মোরা কেবল করি খেলা
সকাল থেকে দুপুর সন্ধ্যেবেলা”
কখনো আবার স্বপ্নলোক থেকে বাস্তব জগতে এনে দাড় করাও তুমি। তোমার সাথে গলা মিলিয়ে বললাম , বীরপুরুষের মতো , মাকে নিয়ে যাবো অনেক দূরে। আবার বইপত্র সরিয়ে রেখে মায়ের সাথে বনবাসী হাওয়ার ও সাধ হলো। এইভাবে আসতে আসতে একদিন এসে দাঁড়ালাম কৈশোর থেকে যৌবনে। তার থেকে প্রাপ্তবয়স্কে।গোড়া র হাত ধরে চিনলাম নিজের মা’ ই শুধু মা নয় – আমাদের যে আরো একজন মা আছেন – দেশ-মাতৃকা। আর তুমি যে আমার আপন সুরে এ ঘাট থেকে ও ঘাটে সোনার তরী বাইয়ে নিয়ে চলেছ। সীমার মাঝে তুমি অসীম – এর সন্ধান দাও। যৌবনের সীমারেখায় দাঁড়িয়ে বলতে শিখেছি –
“সংকোচের ও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান ,
সংকটেরও কল্পনাতে হয়োনা মৃয়মান
মুক্ত করো ভয় ,
আপনা মাঝে শক্তি ধর নিজেরে কর জয়”
যদিও আমি এক কর্মরতা গৃহবধূ কিন্তু তুমি ছাড়া আমি যে অচল, অসম্পূর্ণ, নব্বইয়ের দশকে যেদিন মহাবিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাড়পত্র হাতে পেয়েছিলাম, সেদিনই তুমি শিখিয়েছিলে তোমার প্রতিবাদী কণ্ঠকে আপন করে নিতে। আমি বলে উঠেছিলাম - "বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও ............ ভা ........... ঙো।" এর পর জীবন যুদ্ধের জাহাজ আরো এগিয়ে

চলেছে। কোনো এক ফালগুনী পূর্নিমার রাতে জ্যোৎস্না সমুদ্রে পাড়ি দিয়ে এগিয়ে চলেছি অজানা উদ্যেশ্যে - জানিনা এপথের শেষ কোথায়, শ্রান্ত ক্লান্ত যাত্রীর একমাত্র ভরসা যে তুমিই। মনকে উদ্দীপ্ত করতে তুমিই বলিয়েছ, "ভালোবাসি, ভালোবাসি ..........." এই ভালবাসার যে কোনো স্থান নেই - আমার জীবন পাত্র উছলিয়া উঠিছে ভরে - সে যে আজ সোনার তরীর মতই কানায় কানায় পূর্ণ - ঠাই নাই , ঠাই নাই , ছোট সে তরী , আমারই সোনার ধানে গিয়াছে সে ভরি , তোমার লাবণ্য যে জীবনযুদ্ধে কখনো হেরে যায়নি কবি। নৌকা বিলাস , শ্যামা যেন আমার আধুনিকতাকে নতুন করে চিনতে শিখিয়েছে। আর বজ্রসেন - সেতো আমার অনেক না বলা কথা বলা কবি। লাবণ্যকে ভালোবেসে কবি যেন বার বার শুনিয়েছেন - বিদায় বন্ধু বিদায়। এই হচ্ছে আধুনিকতা।এ ভালোবাসা শুধু মানুষের নয় , নয় প্রকৃতিরও। এ ভালোবাসা যেন জাগতিক পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে এক নিরাকারের প্রতি - যা ছড়িয়ে আছে নিঃসীম শূন্যে। এই আধুনিকতা কিন্তু কখনোই স্বেচ্ছাচারিতা নয়। তাইতো আমার মতো রবিঠাকুরের গৃহবধূরা বিবাহসভাতেই বুঝিয়েছিল, এ রাগিণী কেবল একদিনের নহে। একে যত্নে লালন পালন করে বড় করে তুলতে হবে -তারপর সে মহীরূহ হয়ে বটবৃক্ষের মত ছায়া দেবে, তাতে আশ্রয় নেবে কত কেউ ........... নাম না জানারা এসে একই সূত্রে বাঁধবে মালা, একই সূত্রে গাইবে গান।এইভাবেই সংসারের ক্ষেত্রে রাঙিয়ে দিয়ে নিজেকে বসন্তের গানের ডালি দিয়ে পূর্ণ করার চেষ্টাতেই যে জীবন তরী বয়ে চলেছে। একুল থেকে ওকুলে জীবন নাট্যের সায়হ্নে আজ আমি বোধ হয় এক মধ্য গগনের সূর্য।গ্রীষ্মের দাবদাহের মতো সমস্ত অগ্রাহ্য করে কখনো বয়ে চলেছি মেঘের সঙ্গী হয়ে, উড়ে চলেছি যে দিক দিগন্তের ও পানে - নিঃসীম শূন্যে শ্রাবণ বরিষণ সঙ্গীতে। তোমার প্রিয় বৌঠান, মাধবীলতা আরো কত কেউ - এদেরকে যে ভূষণহারে ভরিয়ে দিয়েছ সেই আবরণেই আমি যে আবৃত হতে চাই - তবে ভোলাতে চাইনা রূপে, ভোলাতে চাই যে, নিজেকে রবি রসে সমৃদ্ধ করে - তবেই তো আমার সার্থকতা। সুরূপার অনাহুত চরিত্রকে তুমি অবগুণ্ঠনবতী করেছিলে আবার বজ্রমুষ্ঠি হাতে কুরূপা অর্জুনকে বেছে নিয়েছিল সম্মুখ সমরে ।
"দই চাই গো দই চাই , তুলনা তাহার নাই"

এই উচ্ছ্বল প্রকৃতি মায়ের কথাকে উপেক্ষা করে আনন্দকে জলদান করে সমাজের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসেছে। একটি গণ্ডুষ জল যেন তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার এক বার্তাবাহক। সেই তুমি রবি ঠাকুর, সংসারের বদ্ধ জালেও এভাবেই তুমি বার বার আমার পাশে থেকেছ, আমাকে বলার ভাষা জুগিয়েছ।

তোমায় কি দিয়ে শেষ করব, তোমার সাথে আমার কিসের টান। কোনো নাড়ির টান তো নেই , নেই কোনো প্রত্যক্ষ যোগ। আছে যোগ আছে। তুমিই যে আমার পূর্ণতা। তুমিই যে আমার বাঁচার রসদ - এযে আত্মার সম্পর্ক - আত্মার আত্মীয় - তাকে উপেক্ষা করা যায় রক্তের সম্পর্ক। যা ছিন্ন করবার ক্ষমতা নেই কারো, না কালের, না সময়ের, না এই সমাজের। তাই সব শেষে আমার প্রার্থনা - আরো দেড়শ বছর পর যখন আমার কোনো অস্তিত্ব থাকবে না, তখনও কিন্তু তুমি থেকে যেও কোনো এক গৃহবধুর জীবনসঙ্গী হয়ে, আত্মার আত্মীয় হয়ে। তাকে শিখিয়ে দিও বেঁচে থাকার মত বাঁচতে। সংসারের জাতা কলে পিষ্ঠ হতে হতে সেও যেন ধবল কিরণ গায়ে মেখে, শুকতারার সঙ্গী হয়ে , নিজেকে রবি রশ্মি দিয়ে আবৃত করে রাখে। আর এমনি করেই বেঁচে থাকো সকলের মাঝে, এভাবেই ভালোবাসায় ভুলিয়ে রেখো আমার মতো চিরপ্রেমীদের।
Jayatee Banerjee





যেকোনো রকম প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমরা সর্বদা আপনাদের সহায়তায় সচেষ্ট।
আপনাদের মূল্যবান মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে নিচে রিপ্লাই বক্সে কম্মেন্ট করুন।
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের পরবর্তী পোস্ট প্রকাশিত হলে আপডেট পাওয়ার জন্য। ফলো এবং লাইক করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তী পোস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি আপনাদের সামনে। ধন্যবাদ।

Please don’t hesitate to ask any question to let us know more about your requirements. We are always there to assist you to make you perform better.

Please comment in the comment box below or give us your valuable feedback.

Subscribe us to get updated & follow us on social media. Don’t forget to share with your friends. We will be coming soon with our next post. Thank you.